মকদ্দমা সম্বন্ধীয় সাধারণ বিধিঃ
আদালত সমূহের অধিক্ষেত্র ও রেসয়ডিকেট [= দোবারা দোষ]
আদালত সমূহ (এতে বিধৃত বিধানসমূহ সাপেক্ষে) যে সকল মকদ্দমার গ্রাহ্যতায় ব্যক্ত বা উনক্তে বাধা আছে সেই সকল মকদ্দমা ব্যতিরেকে দেওয়ানী প্রকৃতির সকল মকদ্দমায় বিচার করার অধিক্ষেত্র থাকবে।
- ব্যাখ্যা ১) যে সকল মকদ্দমায় সম্পত্তির অধিকার বা পদের অধিকার বিষয়ে বিবাদ উত্থাপিত হয় তা দেওয়ানী প্রকৃতি বিশিষ্টর মকদ্দমা ঐরূপ অধিকার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বাউৎসব সংক্রান্ত প্রশ্নের সিদ্ধান্তের উপর সম্পূর্ণ রূপে নির্ভরশীল থাকলেও।
- ব্যখ্যা ২)- এই ধারায় প্রয়োজনে, ব্যাখ্যা ১-এ উল্লেখিত পদের সঙ্গে কোন [কি ] সংযুক্ত কি না কিংবা উক্ত পদ কোন বিশেষ স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত কিনা তা গুরুত্ব হীন।
।। দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্র।।
- বিশেষ আইন দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্র। যদি বিধিসম্মত কর্তৃপক্ষ নিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করে অথবা তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহারের দ্বারা কাজ করে অথবা বিচার বিভাগীয় সম্বন্ধীয় পদ্ধতির মৌলিক নীতিগুলি লঙ্ঘিত হয়, তখন দেওয়ানী আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্রে স্পষ্ট রূপে অথবা অনুমানের দ্বারা বর্জন। আইনের বিধানের শব্দগুলির মধ্যে যেস্থানে বাঁধা আছে ঐ সব স্থানের প্রাসঙ্গি ক বিধানের পরিকল্পনা তাদের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় লক্ষ করতে হবে। বিশেষ আইনে প্রতিকার যথেষ্ট অথবা পর্যাপ্ত কিনা আদালত সেটি বিবেচনা করবে। স্পষ্ট রূপে বাঁধার ক্ষেত্রে ঐ সিদ্ধান্তকরণ প্রাসঙ্গিক হলেও চুড়ান্ত হবে না। কিন্তু অনুশাসনের দ্বারা বাঁধা থাকলে ঐ সিদ্ধান্তকরণ চূড়ান্ত হতে পারে। বিশেষ আইন কর্তৃক বিশেষ অধিকার ও দায়িত্ব বিশেষ ন্যায় পীঠ এর দ্বারায় বিচার্য। তবুও আদালত তদন্ত করবে এইভাবে যে প্রতিকারগুলি দেওয়ানী অদালতের সিদ্ধান্ত করনের মধ্যে থাকলেও ঐ আইনের মধ্যে লিপিবদ্ধ আছে কিনা
- কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ দেয় আইন কিন্তু ঐগুলি দেওয়ানী আদালতে প্রশ্নাধীন নয় ও দেওয়ানী আদালতের অধিকারক্ষেত্রে এর চূড়ান্ত নয়। আদালত লক্ষ করবে পরিকল্পনা আইনগত অভিপ্রায় ও প্রতিকারের যর্থাততা। আদালতআরো দেখবে দেওয়ানী আদালতে প্রতিকারের উপায় থাকলেও ন্যায়পীঠ অথবা কর্তৃপক্ষের ঐ প্রতিকার দেওয়ার ক্ষমতা আছে কিনা-
- বিশেষ প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলে ও ঐসব প্রাসঙ্গিক আইন দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্র বর্হিভূত বলে উল্লেখ না থাকলেও দেওয়ানী আদালতে এটি বাঁধার সৃস্টি হবে না-
- বিশেষ আইনে নির্দিষ্ট প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলেও ঐসব আইন ভুক্ত ঘটনা হয়েও বিচারের জন্য আনা হলে দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্র বর্হিভূত বলে ঐসব ঘটনা কে ধরা যাবে না
- যদি কোন আইনে বাধ্যবাধকতা অর্পনের কথা বলা থাকে ও প্রয়োজনীয় আনুমানিক অর্থে আইনও ঘটনার প্রশ্নের সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমতা শালী যন্ত্রসমূহ সৃষ্টি করা হয় তবে সে ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতের অধিকার ক্ষেত্র বহির্ভূত হবে-
- উড়িষ্যা ভূমি সংস্কার আইনের ২২ (১) ধারা লঙ্ঘিত করে বিক্রয় হয়ে থাকলে এটি বাতিল বলে গন্য হবে। কেবলমাত্র রাজস্ব কর্মচারী প্রশ্নটি অনুসন্ধান করার পর সিদ্ধান্ত নিবেন। দেওয়ানী আদালতের অধিকারক্ষেত্র এখানে প্রতিবন্ধক। তবে রাজস্ব কর্মচারী আইন সম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা অথবা তাঁর সিদ্ধান্ত আইনানুগ ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে কিনা এ বিষয়টি সর্ম্পকে দেওয়ানী আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন-
- রাজ্য বিধি দ্বারা গঠিত বিধি অথবা উপবিধি। এগুলি হলো চুক্তি বিধি, এই প্রকার চুক্তি ও চুক্তি পক্ষ আদালতের অধিকার ক্ষেত্রাধীন, গার্হস্থ বিচারালয় দ্বন্দ্বর সিদ্বান্ত নিতে অস্বীকার করলে অথবা বে-আইনীভাবে তার অধিকার ক্ষেত্র ব্যবহার করলে অথবা অধিকার ক্ষেত্রটিকে ব্যবহার না করলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে। দেওয়ানী আদালতে আগমনের পূর্বে গার্হস্থ বিচারালয়ের প্রতিকার সম্পন্ন করতে হয়-
- ট্রেড ইউনিয়ন, সমাজদ্বয় ইত্যাদি রাজ্য বিধি দ্বারা গঠিত আইন সদস্যদের মধ্যে চুক্তির ফর্সা, যদিও নিয়মগুলি আইন দ্বারা রেজেষ্ট্রীকৃত কিন্তু এই সব নিয়ম প্রকৃত আইন সম্মত নয়। যদিও নিয়মগুলিতে স্বাভাবিক বিচারের নীতি পরিলক্ষিত হয় না তবুও শাস্তিমূলক কাজের ফলস্বরূপ এগুলি ব্যবহার হয়। এই নিয়ম পালিত না হলে আদালত হস্তক্ষেপ করে
- বিশেষ আইন দ্বারা যদি জোতদার ইজারায় উত্তীর্ণ সময়ের পর অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা উচ্ছেদ যোগ্য হয় অনধিকার ব্যবসার জন্য তবে সেক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। জোতদার অনধিকার ব্যবসা না করলে দেওয়ানী আদালতের হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে-
চাষের ভূসম্পত্তি সংক্রান্ত কর্মস্থানের এক কর্মচারী যদি চাকরী থেকে বরখাস্ত হবার পর ঐ বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এই কারনের ভিত্তিতে যে ঐ বরখাস্তের আদেশ ১৯৪৬ সালের শিল্পজাত নিয়োগ (দন্ডায়মান আদেশ গুলি) আইনকে লঙ্ঘন করে করা হয়েছে, বরখাস্তের আদেশ বাতিল করার ঘোষনার জন্য ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন যাতে ঐ বরখাস্তের আদেশ কার্যকারী না হয় ও বকেয়া মাহিনা দেওয়া হয়। মামলায় সিদ্ধান্ত হয় যে এটি কর্মে পূনঃ পদস্থ করার ও বকেয়া মাহিনা পাবার জন্য মামলা শিল্পবিরোধ আইন দেওয়ানী মামলার প্রতিবন্ধক
১৯৪৬ সালের শিল্পজাত নিয়োগ আইনকে (দন্ডায়মান আদেশগুলি) লঙ্ঘন করে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ। বরখাস্তের আদেশ বাতিল হোক ও দুই আদেশ দন্ডায়মান আদেশগুলিকে অগ্রাহ্য করে দেওয়া হয়েছে ও বকেয়া মাহিনা পাবার জন্য ঘোষনার মামলা করা হয়েছিল ও বরখাস্ত আদেশকে কার্য্যকারী না করার জন্য ও নিষেধাজ্ঞা জারীর আবেদন ছিল। শিল্পবিরোধ আইনটিতে সম্পূর্ণ প্রতি কারের বিষয় কার্য্যের গতি রক্ষিত করার উপায় ও পদ্ধতির কথা বলা আছে। দেওয়ানী মামলা এটির প্রতিবন্ধক-
মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদিম বিভাগের ও পারিবারিক আদালতের, সম্মিলিত অধিকারক্ষেত্র আছে পারিবারিক আদালত আইনের ৭ ধারার ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি ক্ষেত্রে-
পারিবারিক আদালত আইনে ৭ ধারায় ব্যাখ্যার অন্তর্ভূক্ত বিষয় বস্তুর ক্ষেত্রে চেন্নাই হাইকোর্টের আদিম বিভাগের অধিকারক্ষেত্র বহির্ভূত নয়।
বাদীর দাবী অনন্তকাল অবধি ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন চলে আসছে ও বাদীর পরিবার বংশপরস্পরাগতভাবে এর জন্য অর্থ পেয়ে আসছেন। ঐ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা অচল-
এই আইনে দ্বন্দ্বটিকে সমবায় ৬১ সমিতির সেরেস্তাদারের কাছে উল্লেখ করতে হবে। দ্বন্দ্বটি সমিতির ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় বস্তু হবে। দুধ ইত্যাদির উৎপাদন ও বাজার করনের জন্যই সমিতি প্রতিষ্ঠিত সুতরাং সমিতির স্বীকৃত উদ্দেশ্যের সঙ্গে গৃহ ভারা দেওয়া ও ভাড়া সংগ্রহ করার কোন সম্পর্ক নেই। ঐসব বিষয় সংক্রান্ত মামলা দেওয়ানী আদলতের গ্রহন করার অধিকার ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত সমবায় সমিতির উদ্দেশ্যমূলক কাজের জন্য সমিতির ব্যবসা অথবা কর্মসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে দেওয়ানী আদালতের অধিকারক্ষেত্র বহির্ভূত হবে-
'ক' ও 'খ' এর সম্মতি সরকারের দখলীকৃত, 'খ' এর প্রতিরোধ সত্ত্বেও ক্ষতিপুরণ একমাত্র 'ক' পেলেন। 'খ' ক্ষতিপুরনের অংশীকরনের জন্য মামলা দায়ের করেন, যেটি সমর্থনীয়। তথাপি ৩০ ধারায় জামি গ্রহন আইন
এক ব্যক্তি নিজেকে ভাড়াটিয়া বলে ওজর দেখিয়ে তার নাম নথিভুক্ত করার জন্য বিধিসম্মত কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ইতিমধ্যে মালিক ও সেই ব্যক্তির অপর একটি মামলা চালনার কার্য ধারায় দেওয়ানী আদালত ব্যাক্তিটি কে তার কার্য্য শেষ হয়ে যাবার পর প্রতিনিধি বলে মত দিয়েছেন।' দেওয়ানী আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেই কতৃপক্ষ ব্যক্তিটির দরখাস্ত বাতিল করতে পারেন-
অধিকার ক্ষেত্র বর্হিভূত হলে এটি বাতিল হবে, জারীর ক্ষেত্রেও আনুসঙ্গিক কার্য্যক্ষেত্রে এটিকে আপত্তি জানানো যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মত নিয়ে ত্রুটি সংশোধিত হয় না-
১০। মকদ্দমা মুলতুবি করা
কোন আদালত এরূপ কোন মকদ্দমায় বিচারকার্য নিয়ে অগ্রসর হবে না যাতে বিচার্য বিষয় একই পক্ষগনের মধ্যে পূর্বে দায়ের কৃত মকদ্দমা ও প্রত্যক্ষভাবে এবং মর্মগত ভাবে বিচার্য বিষয় মধ্যে পূর্বে দায়েরকৃত মকদ্দমায় ও প্রত্যক্ষভাবে এবং মর্মগতভাবে বিষয়, কিংবা এরূপ পক্ষগনের মধ্যে পূর্বে দায়ের কৃত মকদ্দমায়ও প্রত্যক্ষভাবে এবং মর্মগতভাবে বিচার্য বিষয়, যাঁদের অধীনে তাঁরা বা তাঁদের মধ্যে যে কোন একজনা একই স্বত্বের অধীনে মকদ্দমা করে দাবি করছেন, যেখানে ঐরূপ মকদ্দমা একই বা ভারতে স্থিত দাবিকৃত উপশম প্রদানের অধিক্ষেত্র সমন্বিত অন্য কোন আদালতে কিংবা কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠত বা পরিচালিত সমরূপ অধিক্ষেত্র বিশিষ্ট ভারতের বর্হিদেশ অবস্থিত অন্য কোন আদালতে কিংবা সুপ্রীম কোর্টের সমক্ষে বিচারাধীন আছে।
ব্যখ্যা- বিদেশী আদালতে কোন মকদ্দমার অমীমাংসিত থাকা ভারত-স্থিত আদালত সমূহকে একই বিবাদ -কারনের উপর প্রতিষ্ঠিত মকদ্দমার বিচার করবার ব্যাপারে নিবৃত্ত করে না।
।। পরবর্তী ঘটনার জন্য বিজ্ঞপ্তি।।
সাধারণত একটি মামলা দাখিল হবার পর থেকে তার অভিযোগের কারনে ভিত্তি পরে, মামলার প্রতিটি পদক্ষেপেই তার বিচার হয়, কিন্তু মামলা চলাকালীন ক্ষেত্রে ঘটনা বৃত্তি ঘটলে আদালত তা লক্ষ করবে ও পক্ষদের বিচারার্থে পরিবর্তিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পক্ষদের সহায়তা করবে
স্থাগিত আদেশ পদ্ধতি।।
স্থগিতাদেশ: পুরোপুরি মামলার কার্যধারা নিষিদ্ধ হবে কিনা। ১০ ধারায় মামলার স্থগিতাদেশ সম্পত্তির সম্পাদক নিয়োগের দরখাস্তের গ্রহনের ব্যাপারে অস্বীকার করতে পারে না-
স্থগিতাদেশের দরখাস্তঃ কোথায় দাখিল হবে। একই বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় উত্তর বিচার ও পরবর্তী মামলা, পরবর্তী মামলা চলাকালীন আদালতেই স্থগিতের দরখাস্ত দাখিল হবে-
স্থগিতাদেশ, অধিকার কিনা। পূর্ববর্তী মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মামলার স্থগিতাদেশ কেবলমাত্র কার্য্যপ্রনালী রীতি- নির্ভররত।
১১। প্রান্যায় [ = পূর্ব বিবেচিত বিষয়াদি/অধ্যক্ষ বিচার্য বিষয়' বিচারিত।]
কোন আদালত এরূপ কোন মকদ্দমার বা বিচার্য বিষয়ের বিচার করবেন না যাতে প্রত্যক্ষভাবে এবং মর্মগতভাবে যা বিচার্য বিষয় তা পূর্ববর্তী কোন মকদ্দমায় ও প্রত্যক্ষভাবে ও মর্মগতভাবে বিচার্য বিষয় ছিল একই পক্ষগনের মধ্যে অথবা এরূপ পক্ষগনের মধ্যে যাঁদের অধীনে তাঁরা বা তাদের মধ্যে যে কোন একজন একই স্বত্বের অধীনে মকদ্দমা করে দাবি করেন এরূপ আদলতে যার যোগ্যতা ছিল ঐ রূপ পরবর্তী মকদ্দমার বিচার করার বা সেই মকদ্দমায় বিচার কারার যাতে উক্ত বিচার্য বিষয় পরবর্তীকালে উত্থাপন করা হয়েছে এবং ঐরূপ আদালত কর্তৃক শ্রুত হয়েছে এবং চূড়ান্তরূপে স্থিরীকৃত হয়েছে।
- ব্যাখ্যা- ১) 'পূর্ববর্তী মকদ্দমা' এই অভিব্যক্তি দ্বারা বোঝাবে এরূপ মকদ্দমা যা প্রশ্নাধীন মকদ্দমার পূর্বে নির্নীত হয়েছে, উহা তার পূর্বে দাখিল কৃত হয়ে থাকুক বা না থাকুক।
- ব্যাখ্যা- ২) এই ধারার প্রয়োজনে কোন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার সম্বন্ধীয় বিধান সমূহ বিবেচনা করে উহার যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
- ব্যখ্যা - ৩) উপরে উল্লেখিত বিষয় পূর্ববর্তী মকদ্দমায় অবশ্যই একটি পক্ষ কর্তৃক অভিযোগ বর্ণিত এবং অন্যপক্ষ কর্তৃক ব্যক্তভাবে কিংবা অব্যক্তভাবে অস্বীকৃত বা স্বীকৃত হয়ে থাকতে হবে।
- ব্যাখ্যা- ৪) এইরূপ পূর্ববর্তী মকদ্দমায় যে বিষয় প্রতিরক্ষক বা আক্রমনের ভিত্তি করা যেতো এবং করা উচিত ছিল তা প্রত্যক্ষ বা মর্মগতভাবে ঐ মকদ্দমার বিষয় বলে ধরতে হবে।
- ব্যাখ্য- ৫) আর্জিতে যে উপশম দাবি করা হয়েছে যা আজ্ঞপ্তি দ্বারা ব্যক্তভাবে 'প্রদত্ত হয়নি তা এই ধারার প্রয়োজনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে ধরেতে হবে।
- ব্যাখ্যা-৬) যেখানে ব্যক্তিবর্গ সদুদ্দেশ্যে ও আন্তরীকতা সহকারে কোন সার্বজনিক অধিকার সম্পর্কে কিংবা নিজেদের এবং অন্যদের জন্য সমবেতভাবে দাবি কৃত ঘরোয়া অধিকার সম্পর্কে মকদ্দমা করেন ঐরূপ অধিকারে স্বার্থ সম্পন্ন সকল ব্যক্তি এই ধারার প্রয়োজনে, ঐভাবে মকদ্দমাকারী ব্যক্তিবর্গের অধীনে দাবি করছেন বলে ধরা হইবে।
- ব্যখ্যা- ৭) এই ধারায় বিধানসমূহ যে কোন আজ্ঞপ্তি নির্বাহ কার্যবাহ-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এই ধারায় যে কোন মকদ্দমার বিচার্য বিষয়ের কিংবা পর্ববর্তী মকদ্দমার উল্লেখ যথাক্রমে কোন আজ্ঞপ্তি নির্বাহ কার্যবাহ, ঐরূপ কার্যবাহ থেকে উত্থিত প্রশ্নাবলি এবং কথিত ডিক্রির নির্বাহের জন্য কোন পূর্ববর্তী কার্যাবাহর উল্লেখ বলে ব্যাখ্য করতে হবে।
- ব্যাখ্য - ৮) সীমিত অধিক্ষেত্র বিশিষ্ট যে আদালতের কোন বিচার্য বিষয়ের মীমাংসা করার যোগ্যতা আছে সেই আদালত কর্তৃক কোন বিচার্য বিষয়র শ্রুত এবং চূড়ান্ত রূপে মীমাংসিত হলে যে কোন পরবর্তী মকদ্দমায় পূর্ববিচারিত বিবাদ বলে গন্য হবে সীমিত অধিক্ষেত্রে-র ঐরূপ আদালত ঐরূপ পরবর্তী মকদ্দমার বিচার করার যোগ্যতা সম্পন্ন না হলেও কিংবা এরূপ মকদ্দমার ঐরূপ বিচার্য বিষয় পরবর্তীকালে উত্থাপ্তি হয়েছে।
।। টীকা।।
দোবাররাদোষ ঘটনা, আইন ইত্যাদির উপর সিদ্ধান্ত। ঘটনা সম্পক হীন অথবা অধিকার ক্ষেত্র সম্বন্ধীয় প্রশ্নের সিদ্ধান্তকে দোরাবাদোষ বলে আখ্যা দেওয়া যাবে না। কিন্তু অভিযোগের কারণ একই থাকলে আইনের প্রশ্ন, ঘটনা সম্পর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্ত হলেও এটিকে দোবারাদোষ বলে আখ্যা দেওয়া যাবে।
ঘটনার ক্ষেত্রেও ঘটনাও আইনের ক্ষেত্রে এই দোবারা দোষের প্রয়োগ ঘটতে পারে। অধিকারের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নিশ্চিত ঘটনার উপর একটি আইনের প্রয়োগ ঘটলে ঐ সিদ্ধান্তটিকে দোরারাদোষ বলে আখ্যা দেওয়া যায়। যথার্থ ঘটনা থেকে সম্পর্কহীন ব্যাপারে আইনের স্বতন্ত্র প্রস্তাব থাকলে সেটিকে দোবারাদোষ বলে আখ্যা দেওয়া যায়।
ধারা- ১১
অধিকারক্ষেত্র সম্বন্ধীয় সিদ্ধান্ত, ঘটনাগুলির সম্পকীয় না হলে অথবা অধিকারক্ষেত্র সম্বন্ধীয় প্রশ্নের কারণে আইনের সিদ্ধান্তকে দোবারা দোষ বলে অভিহিত করা যায় না। কিন্তু অভিযোগের কারণ একই থাকলে আইনের প্রশ্ন, ঘটনা সম্পর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্ত হলেও এটিকে দোবারা দোষ বলে আখ্যা দেওয়া যাবে
বিধির ভুল ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আদালতের অধিকার ক্ষেত্র এ বিষয়ে বহির্ভূত বলেই আদালতের অভিমত কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আদালত ধরেই নেয় যে, তার অধিকারক্ষেত্র আছে সেটি তার নেই। এই সিদ্বান্ত গ্রহনকে কিন্তু দোবারা দোষ বলে ধরা হবে না
পূর্ববতী মামলায় ভাড়াটিয়া হিসবে পরীক্ষক ভাড়াটিয়ার ওজুহাতে ভুলবশতঃ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে নগর দেওয়ানী আদালতের এ বিষয়ে ক্ষমতা আছে কিন্তু তার এ ক্ষমতা নেই। বাড়াটিয়া নগর দেওয়ানী আদালতে পরবর্তী মামলা দায়ের করে ওজুহাত দেখান যে নগর দেওয়ানী আদালতের এ বিষয়ে ক্ষমতা নেই কেবলমাত্র ভাড়াটিয়া হিসাব পরীক্ষকের ক্ষমতা আছে। ভাড়াটিয়া হিসাব পরীক্ষকের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে কিন্তু দোবারা দোষ বলে ধরা যেতে পারে না ও নগর দেওয়ানী আদালতের এই বিষয়ে অধিকার ক্ষেত্র আছে বলেও ধরা যাবে না যেহেতু এক্ষমতা ঐ আদালতের নেই সর্ব্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে - ভাল আইন নয় বলে স্থির করা হয়েছে।
আদালতের অধিকার ক্ষেত্রেও ভুলা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটিকে দোবারাদোষ বলে ধরা যাবে। আইনের ভুল ব্যাখ্যা প্রয়োগ করে আদালত তার অধিকারক্ষেত্র আছে বলে মনে করেছে যে, ক্ষমতাটিকে তাকে দেওয়া হয়নি অথবা তার অধিকারক্ষেত্র থেকেও যে এই অধিকার প্রয়োগ করেনি। এই সিদ্ধান্ত দোবারা দোষ নয়-
- বাড়ীওয়ালা প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা আনেন। ভাড়াটিয়া বাড়ীওয়ালার বিরুদ্ধে নিষেধজ্ঞার জন্য মামলা আনেন। প্রতিবাদী, ভাড়াটিয়ার অথবা অসংগতভাবে সীমানালঙ্ঘনকারী কিনা এই একই প্রশ্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুটি মামলার ক্ষেত্রেই। কিছু ব্যায় না করার জন্য উচ্চ আদলতে ভাড়াটিয়ার উত্তর বিচার বাতিল হয়। এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্ছেদের বিরুদ্ধে উত্তর বিচার মামলার ক্ষেত্রে দোবারা দোষ বলে অভিহিত হবে। -
- 'ক' একটি মামলা 'খ' এর বিরুদ্ধে করেন ও সেটি আজ্ঞপ্তি হয়। 'খ' একটি মামলা 'ক' এর বিরুদ্ধে আনেন ও সেটি বাতিল হয়। বিষয়বস্তু একই। রায় একটিই হয়, 'খ' একটি আজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে উত্তর বিচার করেন। অপর মামলার রায় ও আজ্ঞপ্তি দোবারা দোষ বলে অভিহিত হবে-
- ভাড়াটিয়া বলে অভিযোগ করে 'ক' এর বিরুদ্ধে ও 'খ', 'গ' এর বিরুদ্ধে উপভাড়াটিয়া বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। আদালত 'ক' এর বিরুদ্ধে আজ্ঞপ্তি দেন। 'খ' ও 'গ' এর বিরুদ্ধে মামলা আদালত বাতিল করন ও সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা উপভাড়াটিয়া নন। 'খ' ও 'গ' সম্পর্ক যুক্ত বলে 'ক' উত্তর বিচার করলে আদালত মত পোষণ করেন যে 'খ' ও 'গ' এর অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি। বাড়ীওয়ালা ঐ তিনজনের যথাক্রমে 'খ', 'খ' ও 'গ' এর বিরুদ্ধে উচ্ছেদের দ্বিতীয় মামলা আনেন। পূর্ববতী মামলার রায় দোবারা দোষে অভিহিত হবে না একাধিক কারনে (১) উত্তর-বিচারে 'খ' ও 'গ' এর বিরুদ্ধে মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় (২) প্রতিবাদী ২নং ও ৩নং উত্তর বিচারের বাতিলের আজ্ঞপ্তি সংপ্রশ্ন করতে পারেন না (৩) প্রতিবাদী ২নং ও ৩নং অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তি বলে আর্জি অথবা সাক্ষতে বলা হয়নি-
প্রত্যাভূতি জমি দিতে অপারকদের ক্ষেত্রে প্রস্তাব অগৃহীত হয়। আজ্ঞালেখ দরখাস্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাতিল করেন। দেওয়ানী আদালত যথার্থ প্রতিকারের উপায় আছে সিদ্ধান্ত থাকলেও দেওয়ানী আদালতে মামলার কার্যক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দোবারাদোষে অভিহিত হবে। -
আজ্ঞালেখ দরখাস্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশ্নর সিদ্ধান্তে হলে সেটিতে দোবারাদোষ ঘটবে। কিন্তু অবিলম্বে বাতিল অথবা বিকল্প প্রতিকার অধিকারী থাকলে ঐ দোষ ঘটবেনা-
আদর্শ ভাড়া স্থির করার জন্য উচ্ছেদের মামলায় ভাড়াটিয়া ১৯৪৭ সাল এর বোম্বাই ভাড়া, হোটেল ও যাত্রীনিবাস হার দমন আইন এর ১১ ধারার বিধান প্রার্থনা করেন। ও তার লিখিত বর্ণনাপত্রে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে পেশ করেন নি। পরবর্তী মামলায় ভাড়াটিয়া আদর্শ ভাড়া স্থির করবার জন্য আবেদন করতে পারবেন না কারন যেহেতু এটি নিম্নামান দোবারা দোষে অথবা প্রতিকার্য নীতি বাধাসৃষ্টি।

No comments:
Post a Comment