পণপ্রথা নিবারণকারী আইন
পণ বলতে আইনগত সংজ্ঞা হচ্ছে, কোনও মূল্যবান সম্পত্তি, দলিল / নিদর্শনপত্র বা তদ্রুপ যার ফলে উক্ত বর্নিত বিষয়গুলি অর্জন করা সম্ভব।
বিবাহের একপক্ষ অপর পক্ষকে, যে কোন পক্ষের পিতামাতা, বা অন্য কোনও ব্যক্তি বিবাহের সময় বা পরে, বা পূর্বে উক্ত পক্ষকে দেয় বা দিতে সম্মত হয় যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যাই হোক না কেন তাকে আইনগত ভাবে পণ এর সংজ্ঞার মধ্যে ধরা হবে।
তবে মনে রাখতে হবে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য "মোহর" কিন্তু ধর্মানুযায়ী স্বীকৃতির কারনে পণ এর সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে না।
পণ দেবার বা নেবার জন্য, বা পণ দেবার বা নেবার জন্য প্ররোচনা দেয়, তবে তা কারাদন্ড যা পাঁচ বছরের জন্য বা ১৫ হাজার টাকার কম নয় এরুপ অর্থ দন্ড এই উভয় দন্ড প্রাপ্ত হতে পারেন।
পণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন এর একটি ভূমিকা আছে। কোন বিয়ের বিজ্ঞাপনের আকর্ষণ যদি পণ হয় তবে অথবা পণ দেবার কোনরুপ প্রস্তাব উক্ত বিজ্ঞাপনের মধ্যে থাকে যাতে এটি যথেষ্ট বিবেচিত হতে পারে যা পন দেবার প্রস্তাবে সম্মত হবার কারনে বিবাহ সংগঠিত হয়েছে, তবে এক্ষেত্রে ঐ বিবাহকালীন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হিসাবে বিবেচিত হবে।
তবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ সর্বসাধারনের মধ্যে হবে এবং সংবাদপত্র, সাময়িকি, পত্র পত্রিকার মধ্যে হবে।
দন্ডযোগ্য অপরাধ।
মনে রাখতে হবে পন দেওয়া বা নেওয়া উভয় বিষয় কার্যকারী করবার জন্য কোনরুপ চুক্তি কার্যকর করা যাবে না।
এক্ষেত্রে মনে রাখবেন রাজ্য সরকার পনপ্রথা নিবারণকারী অফিসার্স নিয়োগ করেন এবং যাবতীয় বিষয়াদি ঐ কর্তব্যরত অফিসার কার্যকর করেন।
এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন তার ফলে নিম্নলিখিত সংস্থা গুলি এ ক্ষেত্রে হিতকারী এই বিবেচনায় ঘোষিত হয়েছেন। (Notification No 2256 - SW /DPA188/22.5. 1989 Calcutta Gazette, Extradoinary Pant No. 347 9th June 1989.
- অল ইন্ডিয়া ওমেন কনফারেন্স-৮, বেথুন রোড কলি-৬।
- নব দিগন্ত ৩৮, বিকাশ চ্যাটার্জী পাড়া সরগুনা, কলি-৬১।
- সারভিস টু দি হিউম্যানেটি দমদম,।
- ভারতি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি, বিকাশ গড়, সালবনী, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর।
কলকাতা ছাড়া অন্য জেলায় সকল ডিস্ট্রিক ওয়েলফয়ার অফিসার (সোসাল).
কলকাতার ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিকট প্রোগ্রাম অফিসার পনপ্রথা নিবারনকারী অফিসার হিসাবে কর্তব্যরত থাকবেন।
চেতনানাশকারী মনো বিকারক পদার্থ আইন
১৯৮৫ সনের চেতনানাশকারী মাদক দ্রব্য সম্পর্কিত ব্যবহার এর বিধি নিষেধকে অত্যন্ত সতর্কভাবে ও কঠোরভাবে দমন এর উদ্দেশ্যে এই আইন জন্ম নেয়।
মাদক দ্রব্য ব্যবহার এর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি তৎসহ এই ব্যবসায় এর মধ্যে ক্রমাগত অর্থলাভের প্রলোভনে সরকার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।
এমত অবস্থায় মাদক বর্জন তৎসহ মাদক ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি হ্রাস করার উদ্দেশ্যে এই আইনের প্রয়োগ ও বিধান এর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহন করা হয়।
এই অবস্থায় এই আইনের বিধানগুলি সংক্ষেপে দেওয়া গেল, সংক্ষিপ্তকারে এই সম্পর্কে ধারনাটা পরিষ্কার হবে আশা করা যায়।
- চরস গাঁজা বা উভয়ের মিশ্রন কে বুঝতে হবে।
- কেনাবিস বর্গীয় কোন গাছ/ ঐ প্রজাতির গাছ।
- আফিম পোস্তফুল বা কেনাবিস গাছ এর চাষ ঐ ধরনের ব্যবসা।
- কোকো গাছের চাষ ও তার নির্যাস।
এ ছাড়া কেন্দ্রিয় সরকার আন্তজার্তিক রীতি নীতি অনুযায়ী যে কোন দ্রব্য কে সরকারী গেজেট বিঞ্জাপনের মাধ্যমে প্রচার এর মাদক বিবেচনা প্রকাশ করতে পারেন।
- কোকোগাছ চাষ বা ঐ রূপ ক্ষেত্রে কোকোগাছের কোন অংশ জমা না করা।
- আফিম - পোস্ত বা কেনাবিস চাষ করা নিষেধ।
- কোন ও চেতনানাশকারী মাদক দ্রব্য বা মনোবিকার পদার্থ উৎপাদন, প্রস্তুতকরন, হেফাজতকরন, বিক্রয়, ক্রয়, পরিবহন, গুদামজাত করন ব্যবহার আমদানী বা রপ্তানি করতে পারবে না।
মনে রাখতে হবে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরনের বানিজা করবার উদ্দেশ্যে, অর্থলগ্নী করলে বা ঐ রূপ কার্যে লিপ্ত কোনও ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয় তবে সর্বাধিক কডি বছর কারাদন্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড হতে পারে।
এই ধরনের কার্যে প্ররোচনা বা সেই সম্পর্কিত কোনও অপরাধ ষড়যন্ত্রের কোনও সদস্য হলে সেই অপরাধ উক্ত প্ররোচনার বা ষড়যন্ত্রের সদস্য বিবেচনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির আইনানুযায়ী কারাদন্ড ও অর্থদন্ড হবে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই আইনের বিধান লঙ্ঘন এ পর, যদি পুনরায় ঐ ধরনের মাদক উৎপাদন তৈরী, হেফাজত, গুদামজাতকরন, আমদানী ও রপ্তানির ক্ষেত্রে অংশীদার হয় তবে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
এই আইনের দন্ড কিন্তু ফৌজদারী কার্যবিধি মতে যাই দেওয়া থাক/ বা না থাক মুলতুবী বা বাতিল/ রদবদল হওয়া সম্ভব না।
বেশী। মনে রাখবেন কঠোরতার বিচারে, এই আইন- র মাত্রা ভারতীয় দণ্ডবিধিরর তুলনায়
নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য দ্রবাদি আইন
সব সময় বিভিন্ন জিনিষ যা ব্যবহার এর বিচারে নিত্য প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারন ধারনা আমাদের থাকে না, যে আইনগতভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কাকে বলা হয়েছে,
বা
ঐ ক্ষেত্রে আইনগত বিচার ব্যবস্থা কি রূপ?
নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য দ্রব্যের পরিবেশনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তার সহজ প্রাপ্ততা কে নিয়ন্ত্রন ও নিয়মমাফিক করার উদ্দেশ্যে এই আইনের প্রচলন ও প্রয়োগ ক্ষেত্র।
এবার আমরা দেখি কি কি বিষয়কে ঐ আইনর অন্তভুক্ত করা হয়েছে।
- খইল ও পশুখাদ্য।
- কয়লা ও কয়লা জাত দ্রব্যাদি।
- মোটর গাড়ীর সাজসরঞ্জাম ও অংশ।
- সূতা ও পশম বস্ত্র।
- তৈল ও তৈলবীজ সহ খাদ্যসামগ্রী।
- লৌহ ও ইস্পাতজাত পাত ও দ্রবাদি।
- সংবাদপত্র ছাপার কাগজ।
- কাগজ।
- খড় দিয়ে তৈরী কাগজ।
- পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোপন্য।
- প্রকৃত তুলা তা ছাড়ানো বা না ছাড়ানো উভয় হতে পারে।
- তুলার বীজ।
- কাঁচা পাট।
মোটামুটি ভাবে এই গুলি কে প্রাথমিকভাবে ঐ পন্যের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার আরও পন্যদ্রব্যাদি যার চাহিদা ও ব্যবহার এর গুনেও প্রয়োজনে এই আইনের আওতার মধ্যে আনয়ণ করতে পারেন।
- অবৈধ মজুত করণ।
- অবৈধ রপ্তানী করণ।
- মূল্য বৃদ্ধিকরণ।
- হেফাজতকরণ।
সে ক্ষেত্রে পন্যদ্রব্য আটক ও বিলম্ব ব্যাতিরেকে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার কালেকটরের কাছে দিতে হবে।
যদিও মনে রাখবেন ইচ্ছাকৃত বা স্বেচ্ছাচারিতার ফলে বাজেয়াপ্ত করণ চলে না বাজেয়াপ্ত করণ প্রক্রিয়া চালু করবার আগে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ দিতে হবে।
অসত্য বিবৃতির জন্য বা বলবৎকারী আইনের হিসাবপত্র দলিলাদি সম্পর্কে অসতন্ত্র বিবৃতিতে অনুর্ধ পাঁচ বৎসর কারাদন্ড হতে পারে।

No comments:
Post a Comment