ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোর্ড'
এবার প্রাসঙ্গিক ফৌজদারী কার্যবিধি বা "ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড', এর সর্ম্পকে কিছু জানা প্রাসঙ্গিক।
পুলিশ ঐ ফৌজদারী কার্যবিধির-র বিধান অনুযায়ী চলে। ইচ্ছামত কিছুই করবার ক্ষমতা নেই।
সুতরাং কার্যবিধি যদিও অত্যন্ত বৃহৎ। তবু একটি বিষয়ে যা দৈনন্দিন অত্যন্ত প্রয়োজন এবং যার সম্পর্কে বিভ্রান্তির "তথ্য "হামেশাই "তত্ত্ব" হয়ে গিয়েছে বা যায়।
তাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করা হল।
পুলিশ অ্যারেস্ট করতে পারে। সময় বিশেষে সাধারনত জনগন অ্যারেষ্ট করতে পারে। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা নিকটস্থ থানায় জানাতে হয়।
অনেক বড় ব্যাপার। অনেক ব্যাখ্যা আছে।
খুব সহজে যদি সব বিষয় থেকে কারো স্বাধীনতা" কে হরণ করা হয় তবে তাকে সাধারণ চিন্তাতে অ্যারেস্ট বলা হয়।
তা যায় না। সব সময় ই অ্যারেস্ট করতে সংশ্লিষ্ট ন্যায়াধীশ এর অনুমতি সাপেক্ষ আদেশনামা ছাড়া কাউকে অ্যারেষ্ট করা যায় না।
তবে কতকগুলি বিশেষ ক্ষেত্রে পুলিশ Without order of the Majistrate Arrest করার অধিকারী।
অ্যারেষ্ট করার পর পুলিশি কর্তব্য হচ্ছে ঐ ব্যক্তিকে জানান যে, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি কারনে এবং তিনি জামিন পাবার অধিকারী কিনা।
অ্যারেস্ট করবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত করতে হয়।
আদালত যাবতীয় বিষয় বিবেচনার পর আদেশ দিয়ে থাকেন।
গ্রেফতার করবার আদেশকে বিধিবদ্ধভাবে সংশ্লিষ্ট ন্যায়াধিশ কর্তৃক ঘোষিত, স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত একক অর্থে ওয়ারেন্ট বলে থাকেন।
হ্যাঁ। যায়, তবে কথা আছে। বিশেষ কতকগুলি মামলা যার অভিযুক্ত তার ভূমিকায় থাকেন পুলিশ, মানে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সে ক্ষেত্রে মামলা মিটমাট করা শর্ত সাপেক্ষ। ৩২১ ধারা অনুযায়ী।
"সমন" মানে আদালত উপস্থিত হবার আদেশ। কোন মামলা সম্পর্কিত ব্যাপারে যাতে করে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সাক্ষ্য দানকারী ব্যক্তি ঐ আদালতে উপস্থিত হতে পারে সে বিষয়ে লেখা থাকে।
যদিও এটি ফৌজদারী কার্যবিধির বিষয় নয়। প্রমান আইনের ৩২নং ধারা অনুযায়ী এই জবানবন্দী গৃহীত হয়।
ধরুন কোন গৃহবধূর, হঠাৎ স্টোভ বাস্ট করল, তার কারনে তিনি আহত হলেন, হাসপাতালে ঐ গৃহবধূর বক্তব্য নেওয়া হবে যা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়। এই জবানবন্দীতে ঐ ঘটনার সত্যতা-র বিষয় প্রশ্ন করা হবে- এই প্রশ্নোত্তর মৃত্যুকালীন জবানবন্দীর গুরুত্ব পাবার অধিকারী।
একক অর্থে না। তবে শর্ত আছে।
কোন অবস্থাতেই পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি গ্রাহ্য হয় না। তবে কিনা তার ভিত্তিতে কিছু সত্য বা বিষয় নতুন সংযোজিত হলে যাতে অনেক সময় মামলার বিষয় নতুন মাত্রা পায়- তা গ্রাহ্য হয়।
দেওয়ানী আইন
এবার দেখা যাক দেওয়ানি মামলার বিষয় আইন এর দৃষ্টিকোন কি রকম। দেওয়ানি মামলার পদ্ধতি "সিভিলপ্রসিডিওর কোড" দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
এতে মোটামুটি সব বিষয়ই বিধান আছে।
মোটামুটিভাবে এটি নিচে সংক্ষিপ্তকারে দেওয়া হল।
ইনজাংশন মানে নিষেধাজ্ঞা।
অর্থাৎ কিনা কারো / কোন প্রতিষ্ঠান / অন্যান্য কিছুর কাজকর্মের ফলে অপর কারো / প্রতিষ্ঠান অন্যান্য কিছুর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ, নষ্ট, অথবা পরিবর্তন বা অন্যায়ভাবে বিক্রির জন্য অথবা প্রতিপক্ষের কৃতকর্মের ফলে ঐ রূপ কার্যাবলী হবার সম্ভাবনা আছে এমন অবস্থায় ঐ কার্য বন্ধ / ঘটমান হবার সম্ভাবনাকে বিনষ্ট হবার পদ্ধতিগত প্রয়োগ হিসাবে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা জারী করন সম্ভব।
আদালত আদেশ ৩৯, রুল ১/২ ইনজাংশন দুই প্রকার- (১) টেম্পোরারী (২) 'পারমানেন্ট'。
"ডিক্রির" মাধ্যমে আদালত নির্মিত খনীর যাবতীয় সম্পত্তি "ক্রোক" করার আদেশ দিতে পারেন।
স্থাবর / অস্থাবর উভয় ক্ষেত্রেই এই ক্রোক এর আদেশ বলবৎ থাকে।
তবে মনে রাখতে হবে, ক্রোক করা যায় না -
- (১) বিছানা পত্র।
- (২) কৃষকের কৃষি যন্ত্রপাতি।
- (৩) ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী গহনা পত্র।
- (৪) হিসাব খাতা।
- (৫) ক্ষতিপুরণ বা অন্যান্য কারনে মামল করবার অধিকার।
- (৬) গৃহভৃত্যদের বেতন ও বেতন সামগ্রী।
- (৬) সরকারী কর্মীর স্টাইপের / গ্রাচুইটি।
- (৮) উত্তরাধিকার সুত্রে যা আদায় করা যায়।
- (৯) সাসপেন্ড অবস্থায় প্রাং বেতন আরও অন্যান্য।
- (১০) আরো বহু কিছু, সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় গুলি লিখিত হল।
আদেশ ৪০ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত,
বির্তকিত সম্পত্তির ক্ষেত্রে যা উপযুক্ত নিয়ন্ত্রকের অনুপস্থিতিতে নষ্ট হতে বসেয়ে কিন্তু তার রক্ষনাবেক্ষণ ও আয় সংগ্রহ প্রভৃতি কারনে আদালত কর্তৃক রিসিভার নিয়োগ এর আদেশ নিয়ন্ত্রিত। আয় সংগ্রহ ও তদারকীর কারনে যে ব্যয় থাকবে তা ব্যতিরকে প্রাপ্ত আয় জমা রাখার দায়িত্ব রিসিভার এর।
মামলা বদল করার দায়িত্ব আবেদনকারীর, জেলা আদালতের অধীনস্থ আদালতে মামলা হলে দায়িত্ব জেলা আদালতের থাকে।
উচ্চ আদালতে মামলা হলে উচ্চ আদালতের দায়িত্ব থাকে দেওয়ানি মামলা বদল।
যদি কোন মকদ্দমার, একপক্ষ প্রতিরক্ষণে আপত্তি করেন এই কারনে উক্ত দাবী ব প্রতিরক্ষণ তার কোন অংশ আপত্তিকারী-র বিরুদ্ধে সেই পক্ষ মানে, আপত্তিকারী জ্ঞানের মধ্যে মিথ্যা বা জ্বালাতন কর হয়। সেই পক্ষ কর্তৃক আপত্তিকারী কে উত্ত মামলার হেতু অনুমোদন আদেশে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত ঐ আপত্তিকারীকে ক্ষতিপূরা আদেশ দিতে পারেন।
সরকারের বিরুদ্ধে আনীত মামলা বাদী ও প্রতিবাদী বিবেচনায় যেখানে যে প্রশ্ন বা যে প্রার্থীর এর নামোল্লেখ করতে হবে তারা হবেন-
- ভারত যুক্তর (ক) কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বা কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে (ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া)
- (খ) রাজ্য সরকার কর্তৃক বা বিরুদ্ধে - রাজ্য সরকার।
৩৫
কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ক্রমে ভারতে বসবাসকারী বিদেশী শত্রুরা / ভারত, বন্ধুরা এরূপ মোকদ্দমা যে কোন আদালতে দায়ের করতে পারেন। অনুমতি ব্যাতিরকে এরূপ মোকদ্দমা দায়ের সম্ভব নয়। দেওয়ানি মামলায় হাইকোর্ট আপীল করা যায়।
যে কোন মামলার সন্তোষজনক অধ্যায় সম্পূর্ণভাবে যদি গৃহীত না হয় তবে উচ্চ আদালতে আপীল / পুনঃবিবেচনা কর চলে। যদি রায়টি আইন বিরুদ্ধ / আইনগত পদ্ধতি যথাযথ সম্পূর্ন হয়নি। অন্যান্য আইনি জটিলতা পূর্ন।
বিবিধ
দেওয়ানী ও ফৌজদারী প্রধান বিষয়গুলি ছাড়া নীচে কয়েকটি আইনের সংক্ষেপ বিষয় বস্তু গুলি দেওয়া হইল:-

No comments:
Post a Comment