Breaking

Thursday, September 3, 2026

তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা দেশের মাটি কবিতায় প্রশ্নের উত্তর | desher Mati question answer class 3

দেশের মাটি কবিতার সমস্ত প্রশ্নোত্তর - তৃতীয় শ্রেণি (সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের নবম পাঠ 'দেশের মাটি'। 'ছন্দের জাদুকর' খ্যাত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা এই সুন্দর দেশপ্রেমের কবিতাটির সমস্ত অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর এখানে খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো। ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার্থে প্রতিটি প্রশ্ন এবং তার উত্তর আলাদা আকর্ষণীয় রঙে সাজানো হয়েছে!

১. নীচের প্রশ্নগুলির দু-এক কথায় উত্তর দাও :

১.১ তোমার দেশ কোনটি?
উত্তর: আমার দেশ হলো ভারতবর্ষ।
১.২ সেই দেশটি কেমন?
উত্তর: আমার দেশটি মধুর চেয়েও মধুর। এই দেশের পথের ধুলো খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ গাছপালা, ফুল, ফল আর নদীতে ঘেরা আমার দেশটি রূপের রানি।
১.৩ দেশে থাকতে কবির কেমন লাগে?
উত্তর: নিজের দেশে থাকতে কবির খুব ভালো লাগে। দেশের মাটি, জল, হাওয়া আর প্রকৃতির সৌন্দর্যের মধ্যে থাকতে পেরে কবি মুক্তি-সুখের বার্তা পান এবং তাঁর প্রাণের সব কান্নাকাটি ঘুচে যায়।
১.৪ এই কবিতায় এমন একটি ফলের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার এবং জল—দুটোই থাকে। কোন ফল তা লেখো।
উত্তর: এই কবিতায় 'নারিকেল' (নারকেল) ফলের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার (শাঁস) এবং জল দুটোই থাকে।
১.৫ ধানকে এখানে কনক বা সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: পাকা ধানের রং সোনার মতো উজ্জ্বল হলুদ রঙের হয়। তাছাড়া ধান হলো আমাদের প্রধান সম্পদ, যা বিক্রি করে চাষিরা অর্থ উপার্জন করে। সোনার মতোই ধানের মূল্য ও উজ্জ্বল রং থাকায়, ধানকে এখানে কনক বা সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
১.৬ কবিতায় কবি কোন পাহাড়ের কথা বলতে চেয়েছেন, যা আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখে?
উত্তর: কবিতায় কবি ভারতের উত্তরে অবস্থিত 'হিমালয়' পাহাড়ের (বা পর্বতমালার) কথা বলতে চেয়েছেন, যা প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে বাইরের শত্রুর আক্রমণ ও উত্তরের কনকনে ঠান্ডা হাওয়া থেকে আমাদের দেশকে আড়াল করে সুরক্ষিত রাখে।

২. কবিতাটি কার লেখা? এই কবির লেখা ‘বাংলাদেশ’ আর কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ‘সকল দেশের সেরা’ কবিতা দুটি শিক্ষকের থেকে শুনে নাও।

উত্তর: 'দেশের মাটি' কবিতাটি ছন্দের জাদুকর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা। (বাকি অংশটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সাহায্যে ছাত্রছাত্রীদের শুনে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত কাজ)।

৩. ঠিক শব্দটির উপরে (✓) চিহ্ন বসাও :

উত্তর:
৩.১ মাথায় সূর্য এসে (সোনার✓/রুপোর/তামার) কাঠি ছোঁয়ায়।
৩.২ (পাহাড়/ বন/সাগর✓) সে তার ধোয়ায় পা’টি।
৩.৩ দেশের কোল ভরে আছে (কনক✓/আমন/রঙিন) ধান।
৩.৪ গন্ধে মাতায় (লীলা✓/নীল/লাল) কমল।

৪. নীচে কতগুলি পঙ্‌ক্তি দেওয়া হলো যেগুলি পদ্যে লেখা। এগুলোকে গদ্য ভাষায় লেখো।

উত্তর:
৪.১ ‘পাহাড় তারে আড়াল করে, সাগর সে তার ধোয়ায় পা’টি’
পাহাড় তাকে আড়াল করে রাখে এবং সাগর তার পা ধুইয়ে দেয়।

৪.২ ‘আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’
আমার দেশের পথের ধুলো খাঁটি সোনার চেয়েও বেশি খাঁটি।

৪.৩ সে যে গো নীল পদ্ম আঁখি সেই তো রে নীলকণ্ঠ পাখি’
তার চোখ দুটি নীল পদ্মের মতো, আর সে-ই তো হলো নীলকণ্ঠ পাখি।

৫. কবিতাটির প্রতিটি পঙ্‌ক্তির শেষে যে শব্দগুলি কবি ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। এই মিলে যাওয়া শব্দগুলিকে খুঁজে বের করে লেখো :

উত্তর:
মাটি — খাঁটি, পাটি, পা'টি, দোপাটি, আঁটি, কান্নাকাটি
ভরা — হরা
হেসে — এসে
নিতি — কাঠি (এখানে ছন্দের মিল আছে)
পাহারাতে — রাতে
মাথায় — মাতায়
ফুল — অতুল
কোশে — সে
আঁখি — পাখি
আনে — গানে (যদিও গানে শব্দটি সরাসরি পঙ্‌ক্তির শেষে নেই, তবে ছন্দে মিল আছে)

৬. নীচে দেওয়া শব্দগুলির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন নতুন শব্দ তৈরি করো :

উত্তর:
শব্দ তোমাদের তৈরি শব্দ (মিলযুক্ত শব্দ)
নীল ঝিল, মিল, ঢিল, চিল
মনে বনে, কোণে, ধনে, সনে
যায় খায়, গায়, পায়, বায়
সোনা কোনা, বোনা, দোনা, টোনা
পানি জানি, ছানি, টানি, মানি

৭. শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও:

উত্তর:
ধোয়া (জল দিয়ে পরিষ্কার করা বা ধৌত করা) / ধোঁয়া (আগুন থেকে উৎপন্ন বাষ্প বা ধুম্র)।
পাটি (মাদুর বা বসার আসন) / পা'টি (পাদানি বা পায়ের অংশটি)।
খাঁটি (আসল বা ভেজালহীন) / ঘাঁটি (আস্তানা বা আড্ডা)।

৮. যুক্তাক্ষর রয়েছে, এমন পাঁচটি শব্দ কবিতাটি থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো।

উত্তর: যুক্তাক্ষর রয়েছে এমন পাঁচটি শব্দ হলো— ক্লান্তি, স্নিগ্ধ, জোৎস্না, নীলকণ্ঠ, মুক্তি

৯. কে কোন কাজটি করে লেখো : সূর্য, পাহাড়, সাগর, নাগ, বাঘ, নীলকণ্ঠ পাখি।

উত্তর:
সূর্য: মাথার শিয়রে এসে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে হেসে ওঠে (অর্থাৎ ভোরের আলো দেয়)।
পাহাড়: দেশের মাথা আড়াল করে রাখে (অর্থাৎ দেশকে বাইরের শত্রুর হাত থেকে পাহারা দেয়)।
সাগর: দেশের পা ধুইয়ে দেয়।
নাগ ও বাঘ: দেশের পাহাড়াতে বা পাহারায় থাকে।
নীলকণ্ঠ পাখি: মুক্তি-সুখের বার্তা এনে প্রাণের সমস্ত কান্নাকাটি বা দুঃখ ঘুচিয়ে দেয়।

১০. নিজের ভাষায় নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লেখো।

১০.১ কবিতাটিতে দেশের রূপবর্ণনায় কবি কোন কোন ফুলের নাম করেছেন?
উত্তর: কবিতাটিতে দেশের রূপবর্ণনায় কবি মৌল ফুল, লীলা কমল, বকুল এবং দোপাটি ফুলের নাম করেছেন।
১০.২ সেইসব ফুল দেশকে কীভাবে সাজিয়েছে?
উত্তর: সেইসব ফুল দেশকে অপূর্ব সৌন্দর্যে সাজিয়েছে। মৌল ফুলের মালা দেশের মাথায় শোভা পাচ্ছে, লীলা কমলের মিষ্টি গন্ধে চারদিক ম-ম করছে, আর পায়ে যেন বকুল আর দোপাটি ফুলের নূপুর পরা আছে। এভাবেই ফুলেরা দেশমাতৃকাকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তুলেছে।
১০.৩ দেশের প্রতি তোমার অনুভূতির কথা চার-পাঁচটি বাক্যে লেখো।
উত্তর:
১. আমার জন্মভূমি ভারতবর্ষের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে।
২. এ দেশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, নদী, জঙ্গল ও সাগর আমার মনকে মুগ্ধ করে।
৩. বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ এখানে যেভাবে মিলেমিশে থাকে, তা দেখে আমি গর্ববোধ করি।
৪. দেশের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আমি আমার দেশকে আরও ভালোবাসতে শিখি।
৫. বড়ো হয়ে আমি আমার দেশের সেবা করতে চাই এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করতে চাই।

No comments:

Post a Comment