Breaking

Thursday, September 3, 2026

তৃতীয় শ্রেণি বাংলা মন কেমনের গল্প প্রশ্নের উত্তর | mon kemoner golpo class 3 bangla question answer

মনকেমনের গল্প গল্পের সমস্ত প্রশ্নোত্তর - তৃতীয় শ্রেণি (নবনীতা দেবসেন)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের অষ্টম পাঠের খুব সুন্দর একটি গল্প হলো নবনীতা দেবসেনের লেখা 'মনকেমনের গল্প'। মেঘলা দিনের অনুভূতি নিয়ে লেখা এই গল্পের অনুশীলনীতে থাকা সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ভাষায় এখানে আলোচনা করা হলো। ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার্থে প্রতিটি প্রশ্ন এবং তার উত্তর আলাদা আকর্ষণীয় রঙে সাজানো হয়েছে!

১. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষেপে উত্তর দাও :

১.১ বৃষ্টির দিনগুলো রুবাইয়ের এত ভালো লাগে কেন?
উত্তর: রুবাইয়ের বৃষ্টির মেঘছায়ে সজলবায়ে দিনগুলো ভীষণ ভালো লাগে, কারণ এমন দিনে একটুকুও পড়ায় মন বসে না এবং ক্লাসরুমের জানলা দিয়ে চোখ যেন ডানা মেলে আকাশে উড়ে যায়।
১.২ আমাদের জাতীয় সংগীত কোনটি?
উত্তর: আমাদের জাতীয় সংগীত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে'।
১.৩ ১৫ আগস্ট দেশ জুড়ে জাতীয় পতাকা তোলা হয় কেন?
উত্তর: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট আমাদের দেশ ইংরেজদের শাসন থেকে স্বাধীন হয়েছিল। তাই এই দিনটিকে সম্মান জানাতে এবং স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করতে দেশ জুড়ে জাতীয় পতাকা তোলা হয়।
১.৪ ইস্কুল রুবাইয়ের কেমন লাগে?
উত্তর: রুবাইয়ের ইস্কুল যেতে ভালো লাগে না, বিশেষ করে মেঘলা দিনে তার একদম ইচ্ছে করে না। তার মনে হয় ইস্কুলে গিয়ে যদি কেবল খেলার মাঠেই থাকা যেত, তবে ভালো হতো।
১.৫ ‘বলাকা’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ‘বলাকা’ বলতে একসঙ্গে সারিবদ্ধভাবে উড়ে চলা সাদা পাখির ঝাঁককে বোঝায়।
১.৬ শক্ত শব্দের মানে রুবাইকে কে বলে দিতেন?
উত্তর: শক্ত শব্দের মানে রুবাইকে তার দিদমা বলে দিতেন।
১.৭ রুবাইয়ের লেখার খাতা কে দিয়েছিলেন? খাতাটি কেমন?
উত্তর: রুবাইয়ের লেখার খাতাটি তার ছোটোমামু দিয়েছিলেন। খাতাটি খুব সুন্দর করে বাঁধানো ছিল।
১.৮ লেখার খাতায় রুবাই কোন দিনের কথা লিখেছিল?
উত্তর: লেখার খাতায় রুবাই ১৫ই আগস্ট বা স্বাধীনতা দিবসের কথা লিখেছিল।
১.৯ আমাদের দেশের জাতীয় পতাকায় কটি রং আছে? সেগুলি কী কী?
উত্তর: আমাদের দেশের জাতীয় পতাকায় প্রধানত তিনটি রং আছে। সেগুলি হলো একেবারে ওপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা এবং নীচে সবুজ। (সাদা রঙের মাঝখানে নীল রঙের একটি অশোক চক্র থাকে)।
১.১০ রুবাই খাতায় যা লিখেছিল, তা তুমি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: রুবাই তার খাতায় লিখেছিল— আজ ১৫ই আগস্ট, স্কুলে পতাকা তোলার পরেই ছুটি হয়ে গেছে। মেঘলা আকাশে জাতীয় পতাকা ওড়ার সময় তারা ‘জনগণমন’ গান গেয়েছে। ঠিক সেই সময় একঝাঁক সাদা পাখি পতাকার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। দেখে মনে হলো তারা যেন দূর দেশ থেকে এসে আমাদের পতাকাকে স্যালুট করে গেল। পাখিদের ওই সুন্দর কিচির-মিচির বা কাকলি-কূজন করতে করতে উড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা তার খুব ভালো লেগেছে।

২. নির্দেশ অনুসারে লেখো :

উত্তর:
রুবাই বৃষ্টির দিনে যা যা করতে চায় তুমি বৃষ্টির দিনে যা যা করতে চাও
১. সারাক্ষণ ছাদে দৌড়োদৌড়ি করতে চায়। ১. জানলার ধারে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনতে চাই।
২. বারান্দায় ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখতে চায়। ২. কাগজের নৌকো বানিয়ে জলে ভাসাতে চাই।
৩. আকাশ দেখতে চায়। ৩. মায়ের হাতের গরম খিচুড়ি বা পকোড়া খেতে চাই।
৪. জানলায় চুপ করে বসে থাকতে চায়। ৪. গল্পের বই পড়তে চাই।
৫. ছোটোমামুর দেওয়া সুন্দর খাতায় কিছু লিখতে চায়। ৫. বসে বসে বৃষ্টির সুন্দর ছবি আঁকতে চাই।

৩. এলোমেলো বর্ণগুলি সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো :

উত্তর:
র চি মি চি কি র ➔ কিচিরমিচির
ক ন কূ লি কা জ ➔ কাকলিকূজন
লো ধা আঁ রি আ ➔ আলোআঁধারি
র ল ম গ কা ➔ গরমকাল
দ বৃ বা ষ্টি লা ➔ বৃষ্টিবাদল

৪. বর্ণ বিশ্লেষণ করো :

উত্তর:
বিষ্টি = ব্ + ই + ষ্ + ট্ + ই
ক্লোরোফিল = ক্ + ল্ + ও + র্ + ও + ফ্ + ই + ল্ + অ
সারাক্ষণ = স্ + আ + র্ + আ + ক্ + ষ্ + অ + ণ্ + অ
আশ্চর্য = আ + শ্ + চ্ + অ + র্ + য্ + অ
সুন্দর = স্ + উ + ন্ + দ্ + র্ + অ

৫. বাক্য রচনা করো :

উত্তর:
অন্ধকার: মেঘ করে আসায় চারিদিক কেমন অন্ধকার হয়ে গেল।
রোদ্দুর: শীতকালের সকালে পিঠে মিষ্টি রোদ্দুর মাখতে খুব ভালো লাগে।
মেঘলা: এমন মেঘলা দিনে আমার একদম পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না।
বনজঙ্গল: কলকাতা শহরের মধ্যে তো সেভাবে কোনো বনজঙ্গল নেই।
সাদা: আকাশে একঝাঁক সাদা পাখি উড়ে গেল।

৬. ‘অল্প’– এই শব্দটিতে যেমন ‘ল্প’ আছে, এরকম তিনটি শব্দ লেখো যেখানে ‘ল্প’ রয়েছে।

উত্তর: ‘ল্প’ (ল্ + প) যুক্ত তিনটি শব্দ হলো— গল্প, অল্পবয়সি, জল্পনা (এছাড়া শিল্প, বিকল্প ইত্যাদিও হতে পারে)।

৭. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৭.১ এই গল্পে ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ গানটির নাচ রুবাই শিখেছে। গানটি কার লেখা?
উত্তর: ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ গানটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
৭.২ বৃষ্টির সময় চারিদিকের পরিবেশ কেমন হয়ে যায় কয়েকটা বাক্যে লেখো।
উত্তর: বৃষ্টির সময় চারিদিকের পরিবেশ খুব স্নিগ্ধ ও সতেজ হয়ে ওঠে। আকাশে কালো মেঘ জমে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকায় আর মেঘ ডাকে। ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে গাছপালাগুলো একদম পরিষ্কার সবুজ দেখায়। চারদিকে একটা ঠান্ডা এবং মিষ্টি হাওয়া বইতে থাকে।
৭.৩ তোমরা তোমাদের স্কুলে স্বাধীনতা দিবস কেমন করে পালন করো? কী কী অনুষ্ঠান হয়? সকলে মিলে তোমরা কোন গান গাও?
উত্তর: আমরা আমাদের স্কুলে ১৫ই আগস্ট খুব আনন্দের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালন করি। সকালে প্রধান শিক্ষক মহাশয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে 'জনগণমন' জাতীয় সংগীতটি গাই। এরপর আমাদের স্কুলে দেশাত্মবোধক গান, নাচ এবং কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে মিষ্টি বা চকোলেট দেওয়া হয়।
৭.৪ বৃষ্টির দিনে রাস্তার গাছেদের খুশি খুশি দেখায় কেন?
উত্তর: গরমকালের কড়া রোদ্দুরে গাছগুলো ধুলোয় ভরে যায় এবং তাদের খুব ক্লান্ত দেখায়। কিন্তু বৃষ্টি হলে সেই ধুলো ধুয়ে গিয়ে গাছেরা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং তারা বৃষ্টির জল পেয়ে সতেজ হয়ে ওঠে। তাই বৃষ্টির দিনে রাস্তার গাছেদের খুব খুশি খুশি দেখায়।
৭.৫ এমন একটা দিনের কথা লেখো যে দিন খুব বৃষ্টির জন্য তোমার স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর: গত বছর বর্ষাকালে একদিন সকাল থেকেই খুব জোর বৃষ্টি হচ্ছিল। চারিদিক অন্ধকার হয়ে ছিল এবং রাস্তায় অনেক জল জমে গিয়েছিল। আমি ছাতা ও রেনকোট পরে কষ্ট করে স্কুলে গিয়েছিলাম, কিন্তু গিয়ে দেখি খুব কম ছাত্রছাত্রী এসেছে এবং মাস্টারমশাইরাও অনেকেই আসতে পারেননি। তাই কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের স্কুল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই দিন বাড়ি ফিরে আমি খুব মজা করেছিলাম।

৮. বৃষ্টি নিয়ে লেখা তোমার জানা কোনো ছড়া বা কবিতা লেখো।

উত্তর: বৃষ্টি নিয়ে আমার জানা একটি সুন্দর ছড়া হলো—

"বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান।
শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে, তিন কন্যে দান।।"

No comments:

Post a Comment