Breaking

Saturday, August 1, 2026

মাঠ থেকে দেখা: মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে পিএম কিষান প্রকল্পের বাস্তব ছবি — একটি নিজস্ব সমীক্ষা

মাঠ থেকে দেখা: মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে পিএম কিষান প্রকল্পের বাস্তব ছবি — একটি নিজস্ব সমীক্ষা

📚 Table of Contents

    কেন এই সমীক্ষা

    সরকারি প্রকল্পের কথা কাগজে-কলমে যত সহজ শোনায়, মাঠে নেমে দেখলে ছবিটা প্রায়ই অন্যরকম হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি নিজে ঘুরে দেখেছি বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর ১ নং ব্লকের অন্তর্গত মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি গ্রাম — কথা বলেছি চাষিদের সঙ্গে, দেখেছি জমির অবস্থা, আর বোঝার চেষ্টা করেছি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) প্রকল্পের সুবিধা আদতে কতজনের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই লেখাটি কোনো সরকারি রিপোর্ট নয়, বরং একজন স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে চোখে দেখা এবং কান পেতে শোনা অভিজ্ঞতার সংকলন।

    সমীক্ষার পদ্ধতি

    এই লেখাটি কোনো টেবিল-চেয়ারে বসে লেখা প্রতিবেদন নয়। মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কয়েকটি গ্রামে সরাসরি গিয়ে, চাষিদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে, মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট নমুনা-সংখ্যা বা পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি — এটি সম্পূর্ণভাবে একজন স্থানীয় বাসিন্দার চোখে দেখা বাস্তবতা। যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁদের বেশিরভাগই ছোট ও প্রান্তিক চাষি, যাঁদের জমির পরিমাণ এক একরের কম থেকে দুই-তিন একরের মধ্যে। কারও কারও সঙ্গে কথা হয়েছে ক্ষেতের ধারে, কারও সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা বাড়ির উঠোনে বসে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ মেনে এখানে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, শুধু সামগ্রিক প্রবণতাটুকু তুলে ধরা হয়েছে।

    পিএম-কিষান প্রকল্প আসলে কী দেয়

    ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এই প্রকল্পে জমির মালিকানা থাকা কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে ৬,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। প্রতিটি কিস্তির পরিমাণ ২,০০০ টাকা, আর টাকা পাঠানো হয় ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি পদ্ধতিতে। ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পের ২৩তম কিস্তিতে সারা দেশের প্রায় সাড়ে নয় কোটি কৃষক পরিবার এই সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গেছে, যেখানে ১৮,৮৮০ কোটি টাকা ৯.৪৪ কোটির বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর জমি সরকারি রেকর্ডে নথিভুক্ত থাকা, আধার-ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক থাকা এবং ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ থাকা আবশ্যক।

    শুনতে সহজ মনে হলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের ইতিহাস একটু জটিল। রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব তহবিল থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালু রেখেছিল, যেখানে এক একর বা তার বেশি জমি থাকা চাষিরা বছরে ১০ হাজার টাকা এবং তার কম জমি থাকা চাষিরা ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা পেতেন। সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই কেন্দ্রীয় পিএম-কিষান যোজনা রাজ্যে কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ, পিএম-কিষান আমাদের রাজ্যে এখনও অনেকটাই নতুন এবং রূপান্তরের পর্যায়ে থাকা একটি প্রকল্প — আর ঠিক এই কারণেই মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি ও ঘাটতি থেকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

    মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে যা দেখলাম

    আমাদের এলাকার আশেপাশের প্রায় সব গ্রামেই একটি প্রকল্পের সুবিধা প্রায় সবাই পান — কিন্তু পিএম-কিষানের ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। কথা বলে যা বুঝলাম, তাতে স্পষ্ট যে বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য তৈরি এই প্রকল্পের কিস্তি অনেকেই কখনও পাননি, বা পেলেও অনিয়মিতভাবে পেয়েছেন। কয়েকটি সাধারণ কারণ বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়:

    • ১. জমির রেকর্ড ও কাগজপত্রের জটিলতা: এখানকার অনেক ছোট চাষির জমি পারিবারিক বণ্টনের পর সরকারি রেকর্ডে ঠিকভাবে আপডেট হয়নি। পোর্টালে নাম তোলার আগে জমির পর্চা, খতিয়ান মিলিয়ে দেখাটাই একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    • ২. পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প বা সহায়তা শিবিরের অভাব: কৃষি অফিস থেকে সহায়তা ডেস্ক থাকার কথা থাকলেও, এই পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়মিতভাবে সে ধরনের ক্যাম্প বসতে দেখিনি বললেই চলে। ফলে যাঁরা নিজে থেকে ব্লক অফিস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না, তাঁরা তথ্যের অভাবেই আবেদন করতে পারেননি।
    • ৩. ই-কেওয়াইসি ও আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্কের সমস্যা: ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকলে কিস্তি আটকে যায় — এটা এখনকার প্রকল্পের একটি স্পষ্ট শর্ত। কিন্তু বয়স্ক ও প্রযুক্তিতে অনভ্যস্ত চাষিদের কাছে এই ধাপটুকু পার হওয়া মোটেই সহজ নয়।

    জল কেনার বাধ্যবাধকতা — একটি বড় প্রভাব

    এই সমীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে একটি বিষয়: সরকারি সেচ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এই অঞ্চলের অনেক ছোট চাষিকে নিজের টাকায় জল কিনে জমিতে সেচ দিতে হয়। যে টাকাটা পিএম-কিষানের কিস্তি হিসেবে হাতে আসার কথা ছিল, সেটাই বছরের একটা বড় অংশে সেচের জল কেনায় খরচ হয়ে যায় — অথচ কিস্তি নিজেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতে পৌঁছায়নি। ফলে দুদিক থেকেই চাপ তৈরি হচ্ছে: প্রকল্পের সহায়তা না পাওয়া, আর তার ওপর সেচের বাড়তি খরচ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাষির হাতে থাকা নগদ অর্থের ওপর — ফসল তোলার মরসুমেও অনেকের হাতে বিশেষ কিছু পয়সা থাকে না।

    এটা উল্লেখযোগ্য যে এই সমস্যা শুধু পিএম-কিষান প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পেও যোগ্যতা যাচাইয়ের কড়াকড়ির কারণে বহু কৃষক তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ব্লক কৃষি আধিকারিকরা অযোগ্য বিবেচিত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে জেলা দপ্তরে পাঠাচ্ছেন, যার ফলে ইতিমধ্যেই সুবিধা পাওয়া অনেকের নামও পুনর্যাচাইয়ে বাদ যেতে পারে। অর্থাৎ, রাজ্য প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প — দুটোতেই যোগ্যতা যাচাই ও নথিপত্রের জটিলতা একইরকমভাবে প্রান্তিক চাষিদের সমস্যায় ফেলছে।

    কারা সুবিধা পাচ্ছেন, কারা পাচ্ছেন না

    আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে বড় জমির মালিক এবং যাঁদের কাগজপত্র সম্পূর্ণ ও হালনাগাদ, তাঁরাই মূলত নিয়মিত কিস্তি পাচ্ছেন। অন্যদিকে —

    • যাঁদের জমি ভাগ-বাঁটোয়ারার পর এখনও নামজারি হয়নি
    • যাঁরা বর্গাদার হিসেবে চাষ করেন কিন্তু জমির প্রকৃত মালিক নন
    • যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংযুক্তিকরণ এখনও অসম্পূর্ণ
    • যাঁরা প্রযুক্তিগত কারণে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিজে সম্পন্ন করতে পারেন না

    — এই শ্রেণির চাষিরাই মূলত বাদ পড়ে যাচ্ছেন। আর মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই দ্বিতীয় শ্রেণির চাষির সংখ্যাই বেশি, কারণ এখানকার অধিকাংশ কৃষিজীবী পরিবার ছোট বা প্রান্তিক আকারের জমির ওপর নির্ভরশীল।

    এটা কি শুধু এই পঞ্চায়েতেরই সমস্যা

    এই প্রশ্নের সৎ উত্তর হলো — আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। এই সমীক্ষাটি সম্পূর্ণভাবে ময়ূরেশ্বর ১ নং ব্লকের মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভিত্তিতে করা, প্রতিবেশী ব্লক বা পঞ্চায়েতের অবস্থা সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই। তবে রাজ্যে পিএম-কিষান বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনও তুলনামূলক নতুন হওয়ায়, এবং জমির রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা গোটা রাজ্যেই একটি পরিচিত সমস্যা হওয়ায়, একই ধরনের ছবি বীরভূমের অন্য ব্লকেও থাকা অসম্ভব নয়। এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হলে প্রতিটি এলাকা থেকে আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ করা দরকার।

    চাষিদের কাছ থেকে যা শুনলাম

    স্থানীয় কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে যে সাধারণ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তার সারমর্ম এইরকম —

    • অনেকেই জানেন না তাঁদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়েছে কি না, কারণ স্ট্যাটাস চেক করার মতো ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস তাঁদের নেই।
    • কেউ কেউ একবার আবেদন করে আর ফলো-আপ করেননি, কারণ কোথায় গিয়ে সংশোধন করাবেন তা স্পষ্ট জানেন না।
    • একাধিক পরিবার জানিয়েছেন, প্রতি মরসুমে সেচের জল কেনার খরচ তাঁদের সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ খেয়ে ফেলে।

    এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট — সমস্যাটা শুধু প্রকল্পের নিয়মে নয়, বরং তথ্য পৌঁছানো এবং হাতেকলমে সহায়তা করার ঘাটতিতেও।

    কৃষক বন্ধু বনাম পিএম-কিষান — স্থানীয় বিভ্রান্তি

    মাঠে ঘুরে একটা মজার অথচ চিন্তার বিষয় লক্ষ্য করেছি — অনেক চাষিই কৃষক বন্ধু আর পিএম-কিষান, এই দুটো আলাদা প্রকল্পকে একই জিনিস বলে ভাবেন। রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা মেলে, আর পুরো টাকাটাই আসে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। অন্যদিকে পিএম-কিষান সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প, যেখানে জমির পরিমাণ নির্বিশেষে বছরে ৬ হাজার টাকা তিনটি কিস্তিতে দেওয়া হয়। দুটো প্রকল্পের নিয়ম, আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা আলাদা হওয়ায়, একজন চাষি হয়তো কৃষক বন্ধুর সুবিধা পাচ্ছেন ভেবে পিএম-কিষানের জন্য আলাদা করে আবেদনই করেননি। এই বিভ্রান্তিও অনেকাংশে দায়ী কেন এই এলাকার প্রকৃত সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম।

    সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কৃষক বন্ধু থেকে পিএম-কিষানে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়, আগে যাঁরা কৃষক বন্ধুর আওতায় ছিলেন তাঁদের নতুন করে পিএম-কিষান পোর্টালে নাম তুলতে হচ্ছে কিনা, এই প্রশ্নে এলাকায় স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। প্রশাসনিক স্তরে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রচার না হলে এই দোটানা আরও কিছুদিন চলতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।

    প্রায়ই জিজ্ঞাসিত কয়েকটি প্রশ্ন

    প্রশ্ন: পিএম-কিষানের কিস্তি না আসার প্রধান কারণ কী হতে পারে?
    সাধারণত ই-কেওয়াইসি অসম্পূর্ণ থাকা, আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত না থাকা, অথবা জমির রেকর্ডে নাম ঠিকভাবে নথিভুক্ত না থাকা — এই তিনটিই সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

    প্রশ্ন: এক পরিবারের একাধিক সদস্য কি আলাদা আলাদা আবেদন করতে পারেন?
    না। নিয়ম অনুযায়ী স্বামী, স্ত্রী ও নাবালক সন্তান মিলিয়ে একটি পরিবার থেকে একজনই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

    প্রশ্ন: সমস্যার সমাধানে কোথায় যোগাযোগ করা যায়?
    স্থানীয় কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক বা সহ-কৃষি অধিকর্তার (এডিএ) অফিসে জমির পর্চা, আধার ও ব্যাঙ্ক পাসবই নিয়ে গেলে সরাসরি সংশোধনের ব্যবস্থা করা যায়। অনলাইনে পোর্টালের হেল্প ডেস্ক বা গ্রিভেন্স কর্নারেও অভিযোগ জানানো যায়।

    সম্ভাব্য সমাধানের পথ

    মাঠ পর্যায়ে ঘুরে যা মনে হয়েছে, তার ভিত্তিতে কয়েকটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথা বলা যায়:

    • ১. নিয়মিত সহায়তা শিবির: পঞ্চায়েত অফিসে মাসে অন্তত একবার কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে পিএম-কিষান সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাম্প বসানো, যেখানে আধার, জমির পর্চা ও ব্যাঙ্ক পাসবই নিয়ে গেলে সরাসরি সংশোধন করে দেওয়া যায়।
    • ২. জমির নামজারি দ্রুত করা: ভাগ-বাঁটোয়ারার পর নামজারি প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা হলে অনেক যোগ্য চাষি প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।
    • ৩. স্থানীয় ভাষায় সচেতনতা: বাংলায় সহজ ভাষায় বোঝানো লিফলেট বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক গ্রামে প্রকল্পের শর্ত ও প্রক্রিয়া জানানো।
    • ৪. ছোট সেচ প্রকল্পে বিনিয়োগ: এলাকাভিত্তিক ছোট সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে জল কেনার খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

    শেষ কথা

    পিএম-কিষান প্রকল্প কাগজে-কলমে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, আর জাতীয় স্তরে কোটি কোটি কৃষক এর সুবিধা পাচ্ছেনও। কিন্তু মল্লারপুর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘুরে যা দেখলাম, তাতে স্পষ্ট — প্রকল্পের নকশা আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে এখনও একটা ফাঁক থেকে গেছে। বিশেষত ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা, যাঁদের জন্য আদতে এই প্রকল্প তৈরি, তাঁরাই যেন সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে থাকছেন। এই ফাঁক পূরণ করতে হলে শুধু প্রকল্পের ঘোষণা নয়, বরং তার বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে স্থানীয় স্তরে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি ভবিষ্যতে এই এলাকার আরও চাষি এই সহায়তার আওতায় আসবেন, আর সেচের জলের জন্য তাঁদের নিজের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে না।


    No comments:

    Post a Comment