Breaking

Thursday, September 3, 2026

নৌকাযাত্রা কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Nouka jatra question answer class 3 bangla

নৌকাযাত্রা কবিতার সমস্ত প্রশ্নোত্তর - তৃতীয় শ্রেণি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের সপ্তম পাঠ 'নৌকাযাত্রা' (কবি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) কবিতার সমস্ত অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর এখানে খুব সুন্দর ও সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো। ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার জন্য প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তর আলাদা আকর্ষণীয় রঙে সাজানো হয়েছে।

১. একটি বাক্যে উত্তর দাও:

১.১ 'নৌকাযাত্রা' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: 'নৌকাযাত্রা' কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
১.২ কবিতাটি তাঁর কোন বই থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি তাঁর 'শিশু' নামক বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
১.৩ নৌকাটি কোথায় বাঁধা আছে?
উত্তর: মধু মাঝির নৌকাটি রাজগঞ্জের ঘাটে বাঁধা আছে।
১.৪ নৌকাটিতে কী রয়েছে?
উত্তর: নৌকাটিতে কেবল পাট বোঝাই করা রয়েছে।
১.৫ কবিতার শিশুটি ওই নৌকা পেলে কটি পাল ও দাঁড় জুড়ে নেবে?
উত্তর: কবিতার শিশুটি ওই নৌকা পেলে একশোটা দাঁড় এবং চারটে-পাঁচটা ছটা পাল জুড়ে নেবে।
১.৬ পাল ও দাঁড় নৌকায় কী কী কাজে লাগে?
উত্তর: পাল বাতাসের সাহায্যে নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং দাঁড় টেনে নৌকার গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
১.৭ হাট বলতে কী বোঝো?
উত্তর: গ্রামে বা গঞ্জে সপ্তাহে নির্দিষ্ট কোনো দিনে জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য যে অস্থায়ী বাজার বসে, তাকে হাট বলে।
১.৮ শিশুটি কার নৌকা পেতে চায়?
উত্তর: শিশুটি মধু মাঝির নৌকা পেতে চায়।
১.৯ সে নৌকা করে কোথায় যাবে?
উত্তর: সে নৌকা করে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার যাবে।
১.১০ সে সঙ্গে কাকে কাকে নেবে?
উত্তর: সে তার বন্ধু আশু আর শ্যামকে সঙ্গে নেবে।
১.১১ সে তার মাকে কাঁদতে বারণ করেছে কেন?
উত্তর: কারণ সে রামচন্দ্রের মতো চোদ্দো বছরের জন্য বনে যাচ্ছে না, সে কেবল একবার ঘুরে আবার ফিরে আসবে।
১.১২ রামকে বনবাসে যেতে হয়েছিল কেন?
উত্তর: বাবা দশরথের সত্যরক্ষার জন্য রামচন্দ্রকে বনবাসে যেতে হয়েছিল।
১.১৩ রামচন্দ্রের কাহিনি কোন বই পড়লে জানা যায়?
উত্তর: রামচন্দ্রের কাহিনি মহাকাব্য 'রামায়ণ' পড়লে জানা যায়।
১.১৪ রাজপুত্র, সোনা মানিকের কথা কোন ধরনের বইয়ে থাকে?
উত্তর: রাজপুত্র, সোনা মানিকের কথা রূপকথার বইয়ে বা গল্পের বইয়ে থাকে।
১.১৫ শিশুটি কী কী নিয়ে যাবে?
উত্তর: শিশুটি নৌকায় ভরে সোনা মানিক নিয়ে যাবে।
১.১৬ সে কখন নৌকা ছেড়ে দেবে?
উত্তর: সে ভোরের বেলা নৌকা ছেড়ে দেবে।
১.১৭ দুপুরবেলা তার মা কোথায় থাকবেন?
উত্তর: দুপুরবেলা তার মা পুকুর-ঘাটে থাকবেন।
১.১৮ তখন সে কোথায় থাকবে?
উত্তর: তখন সে নতুন রাজার দেশে থাকবে।
১.১৯ কোন কোন জায়গা পেরিয়ে শিশুটি যাবে?
উত্তর: শিশুটি তিরপর্ণির ঘাট আর তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে যাবে।
১.২০ সে কখন ফিরে আসবে?
উত্তর: সে সন্ধে হলে ফিরে আসবে।
১.২১ নতুন জায়গা ঘুরে আসার গল্প তার মাকে কীভাবে শোনাবে সে?
উত্তর: নতুন জায়গা ঘুরে এসে মায়ের কোলে বসে সে গল্প শোনাবে।

২. বাক্য রচনা করো:

উত্তর:
বাঁধা: গোরুটি দড়ি দিয়ে ওই বড়ো গাছটার সঙ্গে বাঁধা আছে।
নৌকা: নদীতে পালতোলা একটি সুন্দর নৌকা ভেসে চলেছে।
সমুদ্র: সমুদ্রের বিশাল নীল জলরাশি দেখতে খুব ভালো লাগে।
গল্প: ঠাকুমার কাছে রূপকথার গল্প শুনতে আমার খুব মজা লাগে।
মাঝি: মাঝি গান গাইতে গাইতে নদীতে নৌকা চালান।

৩. বর্ণ বিশ্লেষণ করো:

উত্তর:
রাজপুত্র = র্ + আ + জ্ + প্ + উ + ত্ + র্ + অ
তেপান্তর = ত্ + এ + প্ + আ + ন্ + ত্ + অ + র্ + অ
রাজগঞ্জ = র্ + আ + জ্ + গ্ + অ + ঞ্ + জ্ + অ
দুপুরবেলা = দ্ + উ + প্ + উ + র্ + ব্ + এ + ল্ + আ
পুকুর-ঘাট = প্ + উ + ক্ + উ + র্ + ঘ্ + আ + ট্ + অ

৪. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:

উত্তর:
বাঁধা — খোলা
বোঝাই — খালি
মিথ্যে — সত্যি
সন্ধে — সকাল
দেশে — বিদেশে

৫. অর্থ লেখো:

উত্তর:
দাঁড়: নৌকা চালানোর জন্য কাঠের তৈরি চ্যাপটা লাঠি।
পাল: নৌকায় খাটানো বড়ো কাপড় যা বাতাসে ফুলে নৌকাকে এগিয়ে দেয়।
কোণে: ঘরের একপাশে বা প্রান্তে।
মানিক: অতি মূল্যবান পাথর বা রত্ন।
পার: নদীর কূল বা তীর বা ওপার।

৬. সমার্থক শব্দ লেখো:

উত্তর:
সোনা — স্বর্ণ, কনক
নৌকা — তরণী, ডিঙি
নদী — তটিনী, স্রোতস্বিনী
সমুদ্র — সাগর, পারাবার
মাঠ — প্রান্তর, ময়দান

৭. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

উত্তর:
তৃ পু জ রা ➔ রাজপুত্র
র লা দু বে পু ➔ দুপুরবেলা
টি র এ বা ক ➔ একটিবার
পা তে র ন্ত ➔ তেপান্তর
জ রা ঞ্জ গ ➔ রাজগঞ্জ

৮. শব্দযুগলের অর্থ পার্থক্য দেখাও:

উত্তর:
বাধা (বিঘ্ন বা আটকানো) / বাঁধা (বন্ধন বা দড়ি দিয়ে জড়ানো)
ছ'টা (ছয়টি) / ছটা (আলোকরশ্মি বা দীপ্তি)
কোনে (কনে বা নববধূ) / কোণে (ঘরের কোণ বা একপাশে)
দেশ (রাষ্ট্র বা মাতৃভূমি) / দ্বেষ (হিংসা বা শত্রুতা)
পার (ওপার বা পার হওয়া) / পাড় (নদীর কিনারা বা কাপড়ের প্রান্ত)

৯. 'পাটে' শব্দটিকে দুটি অর্থে ব্যবহার করে দুটি আলাদা বাক্য রচনা করো।

উত্তর:
১. পাট (সূর্য অস্ত যাওয়া): সারাদিনের আলো ছড়িয়ে সূর্য পাটে বসেছে।
২. পাট (এক প্রকার তন্তু বা ফসল): রাজগঞ্জের ঘাটে নৌকায় অনেক পাট বোঝাই করা আছে।

১০. মুখে বললে কথাগুলি কীভাবে বলবে?

উত্তর:
১০.১ আমি কেবল যাব একটি বার সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার।
মুখে বললে: আমি কেবল একবার সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার যাব।

১০.২ তখন তুমি কেঁদো না মা, যেন বসে বসে একলা ঘরের কোণে।
মুখে বললে: তখন তুমি একলা ঘরের কোণে বসে বসে যেন কেঁদো না মা।

১০.৩ ভোরের বেলা দেব নৌকা ছেড়ে, দেখতে দেখতে কোথায় যাব ভেসে।
মুখে বললে: ভোরের বেলা নৌকা ছেড়ে দেব, তারপর দেখতে দেখতে কোথায় যে ভেসে যাব।

১১. ঠিক উত্তরটির নীচে দাগ দাও:

উত্তর:
১১.১ নৌকার মালিকের নাম (মধু)।
১১.২ কবিতার শিশুটি যাবে (নৌকায়) চড়ে।
১১.৩ তার সঙ্গে যাবে (বন্ধু)।
১১.৪ সে যাবে (একদিনের) জন্য।
১১.৫ সাতসমুদ্র তেরো নদীর পারে (নতুন রাজার দেশ) আছে।

১২. নীচের বাক্যগুলির ভাব বোঝাতে কবিতায় কীভাবে লেখা হয়েছে পাশে পাশে লেখো।

উত্তর:
১২.১ মধু মাঝির নৌকাখানি দূরে রয়েছে। ➔ মধু মাঝির ওই যে নৌকাখানা বাঁধা আছে রাজগঞ্জের ঘাটে।
১২.২ শিশুটি হাটে ঘুরে বেড়িয়ে সময় নষ্ট করবে না। ➔ মিথ্যে ঘুরে বেড়াই নাকো হাটে।
১২.৩ শিশুটির ভয়, তার মায়ের মন খারাপ হতে পারে। ➔ তখন তুমি কেঁদো না মা, যেন বসে বসে একলা ঘরের কোণে।
১২.৪ শিশুটি কিন্তু একা যাবে না। ➔ আশুকে আর শ্যামকে নেব সাথে, আমরা শুধু যাব মা, তিন জনে।
১২.৫ সেদিনই তারা সন্ধ্যার পরে ফিরে আসবে। ➔ ফিরে আসতে সন্ধে হয়ে যাবে।

১৩. ঘটনার ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো:

সঠিক ক্রম:
১. (১৩.৪) মধুমাঝির নৌকাখানি পাটে বোঝাই হয়ে রাজগঞ্জের ঘাটে বাঁধা আছে।
২. (১৩.১) শিশুটির মনে সাতসমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে যাওয়ার সাধ জাগে।
৩. (১৩.২) নৌকাটি পেলে সে তাতে একশোটা দাঁড় এঁটে, চারটে পাঁচটা ছটা পাল তুলে দেবে।
৪. (১৩.৫) ভোরের বেলা সে তার নৌকা ছেড়ে দেবে।
৫. (১৩.৩) ফিরে এসে সে তার মাকে গল্প শোনাবে।

১৪. বাক্য বাড়াও:

উত্তর:
১৪.১ মধু মাঝির নৌকা। (কেমন নৌকা?) ➔ মধু মাঝির পাট বোঝাই করা নৌকা।
১৪.২ পাল তুলে দিই। (কীসে? কটা?) ➔ নৌকায় চারটে-পাঁচটা ছটা পাল তুলে দিই।
১৪.৩ আমি যাব। (কোথায়? কীভাবে?) ➔ আমি নৌকায় চড়ে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার যাব।
১৪.৪ ফিরে আসতে সন্ধে হয়ে যাবে। (কোথা থেকে?) ➔ তেপান্তরের মাঠ আর নতুন রাজার দেশ থেকে ফিরে আসতে সন্ধে হয়ে যাবে।
১৪.৫ গল্প বলব। (কীসের গল্প?) ➔ নতুন জায়গা ঘুরে আসার গল্প বলব।

১৫. কবিতার শিশুটিকে মধু মাঝির নৌকাটি দেওয়া হলে সে কী করবে তা কবিতাটি পড়ে তোমার নিজের ভাষায় আট-দশটি বাক্যে লেখো।

উত্তর: কবিতার শিশুটি মধু মাঝির নৌকাটি পেলে তাতে একশোটা দাঁড় আর চারটে-পাঁচটা ছটা পাল জুড়ে নেবে। সে নৌকা নিয়ে হাটে ঘাটে মিথ্যে ঘুরে সময় নষ্ট করবে না। সে তার বন্ধু আশু আর শ্যামকে সাথে নিয়ে রামচন্দ্রের মতো রাজপুত্র হয়ে ভোরবেলা নৌকা ছেড়ে দেবে। তারা নৌকাতে সোনা মানিক বোঝাই করে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারের নতুন রাজার দেশে পাড়ি দেবে। দুপুরবেলা যখন তার মা পুকুরঘাটে থাকবেন, তখন তারা তেপান্তরের মাঠ আর তিরপর্ণির ঘাট পেরিয়ে অনেক দূর চলে যাবে। তারপর সন্ধেবেলা ফিরে এসে মায়ের কোলে বসে সারাদিনের ভ্রমণের গল্প শোনাবে।

১৬. বন্ধুদের সঙ্গে তোমার হয়তো কোথাও একদিনের জন্য বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করছে। সেকথা তুমি তোমার অভিভাবক/অভিভাবিকাকে কীভাবে জানাবে, তা পাঁচটি বাক্যে লেখো।

উত্তর:
১. মা/বাবা, সামনেই রবিবার আমাদের স্কুল ছুটি আছে, তাই আমি বন্ধুদের সঙ্গে একটু ঘুরতে যেতে চাই।
২. আমরা সবাই মিলে কাছেই নদীর ধারে পিকনিক করতে যাওয়ার কথা ভেবেছি।
৩. সারাদিন ওখানে একসঙ্গে সবাই মিলে অনেক খেলাধুলো আর মজা করব।
৪. আমাদের সঙ্গে বন্ধুদের মা-বাবারাও কয়েক জন যাবেন, তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই।
৫. বিকেল বেলা আলো থাকতে থাকতেই আমি ঠিক বাড়ি ফিরে আসব, দয়া করে আমাকে যেতে দাও!

No comments:

Post a Comment