Breaking

Wednesday, September 2, 2026

নদীর তীরে একা গল্পের সমস্ত প্রশ্নোত্তর | nodir tire aka question answer class 3

নদীর তীরে একা গল্পের সমস্ত প্রশ্নোত্তর - তৃতীয় শ্রেণি (জীবন সর্দার)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের 'নদীর তীরে একা' (লেখক: জীবন সর্দার) গল্পের সমস্ত অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর এখানে খুব সুন্দর ও সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো। ছাত্রছাত্রীদের পড়ার সুবিধার জন্য প্রতিটি প্রশ্ন ও উত্তর আলাদা রঙে সাজানো হয়েছে!

১. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:

১.১ প্রকৃতি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আমাদের চারপাশের গাছপালা, মাটি, পশুপাখি, পাহাড়, নদী সব কিছুকে একসঙ্গে পরিবেশ বা প্রকৃতি বলা হয়।
১.২ প্রকৃতি যে উপাদান বা জিনিসগুলি নিয়ে গড়ে ওঠে তার কয়েকটি নীচে দেওয়া হলো। একজন প্রকৃতি পড়ুয়া হিসেবে তুমি এর কোন কোন উপাদান পর্যবেক্ষণ করে কী কী জেনেছ আর শিখেছ, তা লেখো:
উত্তর:
  • গাছপালা: গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফুল-ফল দেয় এবং চারপাশের পরিবেশকে শীতল রাখে।
  • বাতাস: বাতাস ছাড়া কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না, আমরা বাতাসের সাহায্যে শ্বাস নিই।
  • পাহাড়-পর্বত: পাহাড় থেকে অনেক নদীর সৃষ্টি হয় এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ভালো করে দেয়।
  • নদী: নদীর জল আমরা পান করি ও চাষের কাজে ব্যবহার করি। নদীর সাহায্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করা যায়।
  • খোলা মাঠ: খোলা মাঠে আমরা খেলাধুলো করি এবং সেখানে প্রচুর মুক্ত বাতাস পাওয়া যায়।

২. আমাদের দেশে ছয়টি ঋতু আছে। প্রতিটি ঋতুর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। নীচের বাক্স থেকে সেগুলি বেছে নিয়ে ঠিক ঋতুর পাশে বসাও:

উত্তর:
  • গ্রীষ্ম: নদী-নালার জল শুকিয়ে গেছে।
  • বর্ষা: ঝমঝম করে বৃষ্টি এলো, পথে-ঘাটে খুব কাদা জমেছে, চাতকপাখি ডাকছে 'ফটিকজল'।
  • শরৎ: সাদা সাদা কাশ ফুলে মাঠ ভরে গেছে, আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দেখা যাচ্ছে।
  • হেমন্ত: এখন ঠান্ডা পড়তে আর অল্পই দেরি।
  • শীত: গাছের সব পাতা ঝরে যাচ্ছে, আজ সোয়েটার গায়ে দিতেই হবে।
  • বসন্ত: চারদিকের আবহাওয়া খুব মনোরম, বাইরে ফুরফুরে দখিনা হাওয়া বইছে, কদিন থেকে গুটিবসন্তের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

৩. বাক্য রচনা করো:

উত্তর:
হাজির: আজ সকাল সকাল আমি স্কুলে হাজির হয়েছি।
চওড়া: আমাদের গ্রামের সামনের নদীটা বেশ চওড়া।
নৌকো: মাঝিমাল্লারা নৌকো বেয়ে নদী পার করছেন।
রং: বর্ষার পর নদীর জলের রং পালটে যায়।
প্রজাপতি: বাগানে ফুলে ফুলে সুন্দর প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।

৪. তোমরা যে গদ্যটি পাঠ করলে, তাতে কিছু নদী এবং পাখির নাম পেয়েছ। সেগুলো খুঁজে বের করে নীচের তালিকায় লেখো:

উত্তর:
নদীর নাম: দামোদর, রূপনারায়ণ, ইছামতী, গঙ্গা।
পাখির নাম: মাছরাঙা, খঞ্জন, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, সরাল।

৫. তুমি প্রকৃতির কোলে পুরো একটা দিন কাটানোর সুযোগ পেলে কোন জায়গাটি বেছে নেবে? তোমার পছন্দের জায়গার পাশে (✓) দাও:

উত্তর: নদীর ধার (✓)।

সেখানে সারাদিন কীভাবে কাটাবে ছয়টি বাক্যে লেখো:
১. সকালে নদীর ধারে গিয়ে ঠান্ডা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করব।
২. নদীর তীরে বসে জেলেদের মাছ ধরা দেখব।
৩. নদীর পাড়ে ফুটে থাকা সুন্দর কাশফুল ও অন্যান্য গাছপালা ঘুরে দেখব।
৪. আকাশের বিভিন্ন পাখিদের ডাক শুনব ও তাদের ওড়াউড়ি দেখব।
৫. দুপুরে নদীর পরিষ্কার জলে স্নান করে গা জুড়াব।
৬. বিকেলে সূর্যাস্তের সময় নদীর জলের সুন্দর সোনালি রং উপভোগ করব।

৬. ফাঁকা ঘরে ঠিক শব্দ বসাও:

উত্তর:
৬.১ নৌকোয় বসে দেখি মাঠে গোরু চরছে আর ছেলেরা চড়ছে গাছে।
৬.২ প্রতিদিন আশা করে নদীর ধারে যাই জোয়ারের জল আসা দেখব বলে।
৬.৩ আমিও দমবার পাত্র নই, মনুও নয়
৬.৪ বহুদিন পরে গাঁ-য় ফিরে গা জুড়িয়ে গেল।
৬.৫ কোনো বাধা না মেনে বাঁধা পাখিটিকে উড়িয়ে দিয়েছি।
৬.৬ সোনা-র চুড়ির আওয়াজ শোনা গেল।

৭. একই অর্থের শব্দ পাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:

উত্তর:
সেতু = পুল
ছোটো নৌকো = ডিঙি
বদলে = পালটে
কূল = তীর বা কিনারা
নির্মোক = খোলস

৮. নীচের বাক্যগুলি থেকে কাজ, ব্যক্তি, বস্তু, গুণ আলাদা করে লেখো:

উত্তর:
৮.১ যেখানে যেমন মাটি তেমন তার দশা। ➔ বস্তু: মাটি, গুণ/অবস্থা: দশা।
৮.২ আমি ফুরসত পেলে, একটা না একটা নদীর তীরে যাই। ➔ ব্যক্তি: আমি, বস্তু: নদী/তীর, কাজ: যাই/পেলে, গুণ: ফুরসত।
৮.৩ সেগুলো হয়তো শীত পড়তে না পড়তেই হাজির হবে। ➔ বস্তু: সেগুলো (পাখি), কাজ: হাজির হবে/পড়তে, গুণ: শীত।
৮.৪ তার চড়ায় চখা দেখেছি, কাদাখোঁচা দেখেছি। ➔ বস্তু: চড়া/চখা/কাদাখোঁচা, কাজ: দেখেছি।
৮.৫ দামোদরে এখন জোয়ার-ভাটা খেলে না। ➔ বস্তু: দামোদর, কাজ: খেলে না, গুণ/অবস্থা: জোয়ার-ভাটা।

৯. বর্ণ বিশ্লেষণ করো:

উত্তর:
নৌকো = ন্ + ঔ + ক্ + ও
সরাল = স্ + অ + র্ + আ + ল্ + অ
ইস্টিশন = ই + স্ + ট্ + ই + শ্ + অ + ন্ + অ
প্রজাপতি = প্ + র্ + অ + জ্ + আ + প্ + অ + ত্ + ই
চৈত্র = চ্ + ঐ + ত্ + র্ + অ

১০. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

উত্তর:
দা খোঁ কা চা ➔ কাদাখোঁচা
সা কা দা লো ➔ সাদাকালো
ষ থা ম বা ন হি ➔ মহিষবাথান
ঠা না ও মা ➔ ওঠানামা
প ৃ ক ত ি প ড় ু য় া ➔ প্রকৃতি-পড়ুয়া

১১. বাক্য বাড়াও:

১১.১ সেই খোঁজ নেওয়া ছিল আমার খেলা। (কীসের খোঁজ?)
উত্তর: ওই নদী কেমন নদী, সেই খোঁজ নেওয়া ছিল আমার খেলা।
১১.২ দুজনে নদীর কথা বলি। (কোন কোন নদী?)
উত্তর: দুজনে দামোদর, রূপনারায়ণ, ইছামতী নদীর কথা বলি।
১১.৩ খঞ্জন আসবে। (কখন?)
উত্তর: শীতের সময় খঞ্জন আসবে।
১১.৪ চরে না গেলে দেখা যাবে না। (কী?)
উত্তর: নদীর চরে না গেলে কাদাখোঁচা, বালিহাঁস ইত্যাদি পাখিদের দেখা যাবে না।
১১.৫ চলাচল দেখতে পাব। (কাদের?)
উত্তর: এখানে নদীর তীরে আটকে থাকা শামুক, গুগলি, ঝিনুক আর প্রজাপতির চলাচল দেখতে পাব।

১২. বাক্য সাজিয়ে লেখো:

১২.১ সেই মাঝির ডিঙি খুব চিনি আমি ভালো।
উত্তর: সেই ডিঙির মাঝিকে আমি খুব ভালো চিনি।
১২.২ সাদাকালো নজরে আমার একটা মাছরাঙা পড়ল।
উত্তর: আমার নজরে একটা সাদাকালো মাছরাঙা পড়ল।
১২.৩ আমার সেখানে কঠিন নয় পক্ষে পৌঁছে যাওয়া।
উত্তর: সেখানে পৌঁছে যাওয়া আমার পক্ষে কঠিন নয়।
১২.৪ প্রজাপতির পাব দেখতে চলাচল।
উত্তর: প্রজাপতির চলাচল দেখতে পাব।
১২.৫ জল নেই তবে, খুব চওড়া নদীতে বটে।
উত্তর: নদীতে জল নেই বটে, তবে খুব চওড়া।

১৩. দু-এক কথায় উত্তর দাও:

১৩.১ লেখকের প্রিয় তিনটি নদী কী কী?
উত্তর: লেখকের প্রিয় তিনটি নদী হলো দামোদর, রূপনারায়ণ এবং ইছামতী।
১৩.২ এখানে তাঁর প্রিয় ঘাটের কথা রয়েছে। ঘাটটির নাম কী?
উত্তর: লেখকের প্রিয় ঘাটটির নাম হলো খাদিনান।
১৩.৩ লেখক কার নৌকোয় উঠলেন?
উত্তর: লেখক মনু মাঝির ডিঙি নৌকোয় উঠলেন।
১৩.৪ জোয়ার-ভাটা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: চাঁদের অবস্থানের কারণে নদীর জল ফুলে ওঠাকে জোয়ার বলে এবং জল কমে নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
১৩.৫ লেখক কেন দামোদরের তীরে এসেছেন?
উত্তর: একই নদীকে ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে কেমন দেখতে লাগে এবং নদীর নানা রূপ দেখতে লেখক দামোদরের তীরে এসেছেন।

No comments:

Post a Comment