Breaking

Wednesday, September 2, 2026

West Bengal Class 3 Bangla Chapter 1 Solution 2026 | পশ্চিমবঙ্গ ৩য় শ্ৰেণির বাংলা চ্যাপ্টার ১ সমাধান

সত্যি সোনা গল্পের প্রশ্ন উত্তর — তৃতীয় শ্রেণির বাংলা

তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের প্রথম পাঠ "সত্যি সোনা" একটি প্রচলিত গল্প। এই গল্পে একজন বুড়ো চাষির অলস ছেলের গল্প বলা হয়েছে, যে বাবার মৃত্যুশয্যায় বলা একটা কথা থেকে ভুল বুঝে জমিতে সোনা খুঁজতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধির জোরে সত্যিকারের "সোনা" অর্থাৎ সোনার ফসল ফলিয়ে তোলে। নীচে "হাতেকলমে" অংশের সব প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় লেখা হলো, যা পড়ুয়াদের গল্পটি ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

সত্যি সোনা

১. একটি বাক্যে উত্তর দাও

প্রশ্ন ১.১: বুড়ো চাষির সংসারে কে কে ছিল?

উত্তর: বুড়ো চাষির সংসারে ছিল তাঁর একমাত্র ছেলে আর ছেলের বউ।

প্রশ্ন ১.২: চাষির ছেলেটি কেমন প্রকৃতির ছিল?

উত্তর: চাষির ছেলেটি ছিল ভারি অলস, কিন্তু টাকাপয়সার প্রতি তার লোভ ছিল ষোলোআনা।

প্রশ্ন ১.৩: বাপের কথা শুনে ছেলের মনের অবস্থা কেমন হলো?

উত্তর: বাবার মুখে জমিতে সোনা পোঁতা থাকার কথা শুনে ছেলের চোখ দুটো লোভে চকচক করে উঠল।

প্রশ্ন ১.৪: বুড়ো চাষি কোন কথাটা তাঁর ছেলেকে বলে যাননি?

উত্তর: জমির ঠিক কোন জায়গায় সোনা পোঁতা আছে, সেই কথাটা বুড়ো চাষি তাঁর ছেলেকে বলে যেতে পারেননি।

২. সংক্ষেপে উত্তর দাও

প্রশ্ন ২.১: চাষির ছেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কতটা জমি খুঁড়েছিল?

উত্তর: চাষির ছেলে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত মোট পাঁচ বিঘে জমি খুঁড়েছিল, কিন্তু কোথাও সোনার ছিটেফোঁটাও পায়নি।

প্রশ্ন ২.২: চাষির ছেলের প্রথম রোজগারে কে খুশি হয়েছিল?

উত্তর: চাষির ছেলের প্রথম রোজগারে তার বউ সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিল।

প্রশ্ন ২.৩: গল্পে কোদাল দিয়ে মাটি খোঁড়ার কথা বলা আছে। আর কী কী জিনিস দিয়ে মাটি খোঁড়া যায় বলে তোমার জানা আছে?

উত্তর: কোদাল ছাড়াও কুড়ুল, গাঁইতি, শাবল, বেলচা, লাঙল ইত্যাদি জিনিস দিয়ে মাটি খোঁড়া যায়।

প্রশ্ন ২.৪: 'সত্যি সোনা' গল্পটির মতো আর কোন গল্প তোমার জানা আছে?

উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিটি পড়ুয়া নিজের জানা গল্প অনুযায়ী নিজের ভাষায় লিখবে। যেমন কেউ লিখতে পারে পরিশ্রম আর সততার ফল নিয়ে কোনো ঠাকুমার কাছে শোনা গল্প, যেখানে আলসেমি ছেড়ে খাটাখাটনি করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

৩. বন্ধনীর মধ্যে থেকে ঠিক উত্তরটা বেছে নিয়ে পুরো কথাটা আবার লেখো

  • ৩.১ উত্তর: ছেলের চোখ দুটো লোভে চকচক করে ওঠে।
  • ৩.২ উত্তর: চাষির ছেলের বউ ছিল খুব বুদ্ধিমতী
  • ৩.৩ উত্তর: বউ বলেছিল, 'সোনা যদি পাও তবে আমাদের কপাল ফিরে যাবে।'
  • ৩.৪ উত্তর: চাষির ছেলে ফসল কাটার পর তা হাটে বিক্রি করে।

৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর লেখো

প্রশ্ন ৪.১: চাষির ছেলে নিজে চাষ-আবাদ করার কথা ভাবতে পারত না কেন?

উত্তর: কারণ ছেলেটি ছিল স্বভাবে চিরকালের অলস, সে সারাজীবন শুয়ে-বসেই কাটিয়েছে, তাই চাষ-আবাদের মতো পরিশ্রমের কথা তার মাথায় আসতই না।

প্রশ্ন ৪.২: শেষ পর্যন্ত চাষির ছেলের মাঠে কাজ করতে যাওয়ার কারণ কী ছিল?

উত্তর: বউয়ের পরামর্শে সে মজুর লাগিয়ে জমি খোঁড়ানো শুরু করেছিল, কিন্তু মজুরদের ওপর তার ভরসা ছিল না — যদি ওরাই সোনা পেয়ে সরিয়ে ফেলে, এই ভয়েই সে নিজে একটা কোদাল নিয়ে মাঠে কাজে নেমে পড়ে, যাতে মজুরদের ওপর নজর রাখা যায়।

প্রশ্ন ৪.৩: চাষির ছেলের বউ কোন সময়কে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে?

উত্তর: বর্ষা নামার ঠিক আগের সময়টাকেই বউ বীজ বোনার উপযুক্ত সময় বলেছে।

প্রশ্ন ৪.৪: সে কোথা থেকে বীজ কিনে এনেছিল?

উত্তর: সে হাট থেকে বীজ কিনে এনেছিল।

প্রশ্ন ৪.৫: সে কীসের বীজ কিনেছিল?

উত্তর: সে সবচেয়ে সেরা জাতের ধানের বীজ কিনেছিল।

৫. নিজের ভাষায় উত্তর দাও

প্রশ্ন ৫.১: 'সেটা বলব বলেই তো ডেকেছি তোমায়'— কে এই কথা বলেছে? সে কাকে এই কথা বলেছে? সে তাকে কী বলার জন্য ডেকেছিল?

উত্তর: এই কথাটি বলেছেন বুড়ো চাষি। তিনি এই কথা বলেছেন তাঁর ছেলেকে। মৃত্যুর আগে জমির নিচে সোনা পোঁতা থাকার গোপন কথাটা ছেলেকে জানানোর জন্যই তিনি তাকে ডেকেছিলেন।

প্রশ্ন ৫.২: গল্পে চাষির ছেলের বউ চাষির ছেলেকে কীভাবে সাহায্য করেছে তা লেখো।

উত্তর: চাষির ছেলের বউ ছিল বুদ্ধিমতী। প্রথমে সে বলে গোটা জমিটাই খুঁড়ে দেখতে হবে সোনা কোথায় আছে। এরপর সে পরামর্শ দেয় মজুর লাগিয়ে জমি খোঁড়ানোর, আবার মজুরদের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে স্বামীকেও নিজে কোদাল নিয়ে কাজে নামতে বলে। জমি খোঁড়া হয়ে গেলে সে বলে জমিটা এখন চাষের উপযুক্ত হয়েছে, তাই ধান বোনার পরামর্শ দেয়। সে নিজেই হাট থেকে ভালো জাতের ধানবীজ কিনে আনে, আর স্বামী মাঠে কাজ করার সময় তাকে খাবার আর তামাক নিয়ে গিয়ে দেয়।

প্রশ্ন ৫.৩: 'সত্যি সত্যি সোনা ফলেছে মাঠে'— কে এই কথা বলেছে? সোনা বলতে এখানে আসলে কোন জিনিসকে বোঝানো হয়েছে? সেই জিনিসটা সোনা না হলেও তার সঙ্গে সোনার কী কী মিল আছে?

উত্তর: এই কথাটি বলেছে চাষির ছেলের বউ। এখানে "সোনা" বলতে আসলে মাঠ ভরা পাকা ধানের ফসলকে বোঝানো হয়েছে। ধান সোনা না হলেও তার সঙ্গে সোনার বেশ কিছু মিল আছে — যেমন পাকা ধানের রং সোনার মতোই সোনালি ও ঝলমলে, আর এই ফসলও সোনার মতোই মূল্যবান, কারণ এই ফসল বিক্রি করেই তারা টাকা রোজগার করেছিল।

প্রশ্ন ৫.৪: চাষির ছেলে ফসল বিক্রি করে বাড়ি ফিরলে তার বউ কী কারণে খুব খুশি হলো?

উত্তর: বউ খুব খুশি হলো, কারণ এটাই ছিল তার স্বামীর জীবনের প্রথম রোজগার। নিজের হাতে পরিশ্রম করে স্বামী প্রথমবার টাকা এনেছে দেখে তার মনে গর্ব আর আনন্দ দুই-ই হয়েছিল।

প্রশ্ন ৫.৫: চাষির ছেলে আর তার বউ বুদ্ধি খাটিয়ে আর পরিশ্রম করে কী পুরস্কার পেয়েছে?

উত্তর: বুদ্ধি খাটিয়ে আর কঠোর পরিশ্রম করে তারা মাঠ ভরা পাকা ধানের ফসল পেয়েছে, আর সেই ফসল হাটে বিক্রি করে ভালো পরিমাণ টাকাও রোজগার করেছে। এটাই ছিল তাদের পরিশ্রমের সত্যিকারের "সোনার" পুরস্কার।

৬. খালি জায়গা পূরণ করো (শব্দ বাক্স থেকে)

শব্দ বাক্স: চকচকে, আসল, দামি, ঝলমলে

৬.১ উত্তর: পিতলের থালাটা সোনার মতোই চকচকে

৬.২ উত্তর: পাকা ধান সোনার মতোই ঝলমলে

৬.৩ উত্তর: আসল সোনা দিয়ে গয়না বানানো যায় না।

৬.৪ উত্তর: রুপো চকচকে হলেও সোনার চেয়ে কম দামি

৭. ছবি দেখে বাক্য লিখে কাহিনি সম্পূর্ণ করো

  • ৭.১ বুড়ো চাষি কঠিন অসুখে বিছানায় শুয়ে আছেন, আর তাঁর ছেলে তাঁর পাশে বসে তাঁর কথা শুনছে।
  • ৭.২ বাবার মৃত্যুর পর ছেলে আর তার বউ বসে জমির নিচে পোঁতা সোনার কথা নিয়ে আলোচনা করছে।
  • ৭.৩ ছেলে আর মজুররা মিলে সোনার খোঁজে মাঠের জমি খুঁড়ছে।
  • ৭.৪ সারাদিন খেটে ক্লান্ত ছেলে মাঠের মধ্যে বসে তামাক খাচ্ছে আর বিরক্ত হচ্ছে।
  • ৭.৫ আকাশে কালো মেঘ জমেছে, বৃষ্টি নামছে, আর ছেলে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বৃষ্টি দেখছে।
  • ৭.৬ ছেলে আর তার বউ মাঠে দাঁড়িয়ে সোনার মতো ঝলমলে পাকা ধানের ফসল দেখে খুশি হচ্ছে।
  • ৭.৭ ছেলে ফসল কেটে হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে এবং টাকা রোজগার করছে।

💡 গল্পের শিক্ষা

"সত্যি সোনা" গল্পটি আমাদের শেখায় যে আলসেমি ছেড়ে বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করলে তার ফল সবসময়ই ভালো হয়। জমিতে লুকোনো সোনা না থাকলেও পরিশ্রম আর বুদ্ধির মিশেলে সত্যিকারের "সোনা" অর্থাৎ ভালো ফসল আর রোজগার — দুটোই পাওয়া সম্ভব।

No comments:

Post a Comment